বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল
হবিগঞ্জের বিশিষ্ট সমাজসেবক দেওয়ান সৈয়দ হুমায়ুন রেজার দাফন সম্পন্ন

হবিগঞ্জের পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট সমাজসেবক, দানবীর ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি আলহাজ্ব দেওয়ান সৈয়দ হুমায়ুন রেজা-এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর ইন্তেকালে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লস্করপুর গ্রামের সাহেব বাড়ির বাসিন্দা, তরফ রাজ্যের সেনাপতি হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (রহ.)-এর বংশধর, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান সৈয়দ ইমামুর রেজা ও মরহুমা সৈয়দা জোবেদা আক্তারের চতুর্থ সন্তান দেওয়ান সৈয়দ হুমায়ুন রেজা গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় ঢাকার বারডেম হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, দুই মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজনগর এলাকার বাসভবনে মরহুমকে একনজর দেখার জন্য আত্মীয়-স্বজন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের মানুষ ভিড় জমান।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় হবিগঞ্জ পৌর শহরের শিরিষতলায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা-পূর্ব বক্তব্যে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেন, “দেওয়ান সৈয়দ হুমায়ুন রেজা ছিলেন সাদা মনের, সহজ-সরল ও পরহেজগার মানুষ। তিনি অসংখ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদান রেখেছেন। তাঁর অবদান হবিগঞ্জবাসী চিরদিন স্মরণ করবে।”
প্রথম জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তাঁর জন্মভূমি লস্করপুর সাহেব বাড়িতে নেওয়া হলে গ্রাম ও আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় করেন।
এরপর বাদ জোহর দুপুর ২টায় লস্করপুর সাহেব বাড়ির ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই হাজারেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা-পূর্ব বক্তব্যে চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন দৌলতবাড়ির পীরজাদা, মরহুমের ছোট ভাই এবং মরহুমের পুত্র দেওয়ান সৈয়দ আবতাবুর রেজা ও দেওয়ান সৈয়দ তৈমুর রেজা।
জানাজা শেষে দেওয়ান সৈয়দ ইমামুর রেজা সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।





















