স্বাভাবিক হয়নি সিলেটের সঙ্গে রেলযোগাযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এখনো সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। বগিগুলো উদ্ধারে কাজ চালাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ৷
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে অন্তত ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকা, সড়ক ও খালে।
দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি-৫৫) ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা। তারা যৌথভাবে লাইনচ্যুত বগি সরানো এবং রেললাইন সচল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মনতলা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান গনি বলেন, রেলের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং বিকেলের মধ্যে আংশিকভাবে লাইন চালুর চেষ্টা চলছে।
নোয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মনির আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার কারণে এখন পর্যন্ত তিনটি ট্রেনের সূচি বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস। যাত্রীদের টিকিট সংরক্ষণ করে ভাড়া ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে আরও ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
হবিগঞ্জ বিজিবির (৫৫ বিজিবি) কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, তেলবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়া পাঁচটি বগির মধ্যে ইতোমধ্যে দুটি বগিকে ক্রেন দিয়ে সোজা করা হয়েছে। আরও দুটি বগিকে সোজা করার কাজ চলছে। আর একটি বগি পানিতে পড়ে আছে। সেটা উদ্ধার করতে সময় লাগবে।
তিনি আরও বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে। রাত থেকেই ঘটনাস্থলেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে৷ বিজিবির সদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় ঠিক না হওয়া পর্যন্ত বিজিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং উদ্ধার কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে বিজিবি বিপুল পরিমাণ তেল নিজস্ব জারিকেন ও ড্রামে করে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে৷ ইতোমধ্যে বিজিবির একাধিক টহল ও সহায়ক দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে৷
















