সুষ্ঠু ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজন করায় সংশ্লিষ্টদের উপদেষ্টা পরিষদে ধন্যবাদ জ্ঞাপন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আজকের বৈঠকের প্রথম এজেন্ডা ছিল সফল ও ঐতিহাসিক নির্বাচন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ।
প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানান। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।’
প্রেসসচিব জানান, বৈঠকে উপদেষ্টারা এবারের নির্বাচন আয়োজনকে ‘মহা সাফল্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’ পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও প্রকৃত অর্থে নির্বাচন-সম্পর্কিত সহিংসতায় নিহত হয়েছেন একজন। হাতিয়ার একটি ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
শফিকুল আলম বলেন, ‘এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বডি ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি এবং সুরক্ষা অ্যাপ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ১৭টি কেন্দ্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। ভবিষ্যতে বডি ওর্ন ক্যামেরা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।’
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও আইআরআই নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বলে জানানো হয়। নারী ও তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এ ছাড়া সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের অবদানের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং তার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন বিকেল ৪টায় সংসদের সাউথ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে এই জাতিকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

























