ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবন দিবসের জনসমাবেশে বক্তারা

হারুন শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি::
9

সুন্দরবনের ক্ষতিসাধনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের নীতি নির্ধারকদের কাছে আজো সুন্দরবন গুরুত্বহীন। মানুষের থাবায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ ক্ষতবিক্ষত। বন্যপ্রাণী অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আ্ওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে মোংলা পৌর শহীদ মিনার চত্বরে সুন্দরবন দিবসের জনসমাবেশে বক্তারা একথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সুন্দরবন রক্ষায় আমরা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকপারের আয়োজনে সুন্দরবন দিবসের এ জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে জনসমাবেশসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিলো উত্তরণ, সিএনআরএস, বাদাবন সংঘ ও সার্ভিস বাংলাদেশ।

শনিবার বিকেল ৪ টায় জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বকারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ ।

জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী পরিবেশযোদ্ধা শরীফ জামিল। জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, ক্রীড়াবিদ শেখ রুস্তুম আলী, মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার। সুন্দরবনের জেলে বিদ্যুৎ মন্ডল, আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ঢাংমারি ডলফিন সংরক্ষণ দলের টিম লিডার ই¯্রাফিল বয়াতি, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলে বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, সার্ভিস বাংলাদেশ’র মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, নারীনেত্রী আফরোজা হীরা, কমলা সরকার, বৃষ্টি সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের হাসিব সরদার, ইয়ুথ লিডার মেহেদী হাসান প্রমূখ। জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, প্রতিবছর সুন্দরবন দিবসে আমরা সুন্দরবনকে রক্ষার আহ্বান জানাই। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে সুন্দরবন ততই বিপন্ন হচ্ছে। জাতিসংঘ সরকারকে সুন্দরবনসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা যথাযথভাবে করার পরামর্শ দিয়েছে।

আমরা চাই নতুন সরকার অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বিজ্ঞানসম্মত একটি স্বচ্ছ সমীক্ষা করবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ, বিষ দিয়ে মাছ মারা ও অন্যান্য হুমকি থেকে সুন্দরবনের সত্যিকার সুরক্ষা দিবে। জনসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনে প্লাস্টিক পলিথিন দূষণ বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবনাক্ততা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি প্ওায়াতে সুন্দবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কয়লা দূষণ, শিল্প দূষণের কবল থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবন বিনাশী কোন ধরনের কর্মকান্ড সহ্য করা হবেনা।

সুন্দরবনের দস্যুবৃত্তি বেড়ে গেছে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনসমাবেশের আগে সুন্দরবন বিষয়ক শিশু চিত্রাংকণ, বাঘ মহড়া, লাঠিখেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫০৪ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন দিবসের জনসমাবেশে বক্তারা

আপডেট সময় ১০:৫৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
9

সুন্দরবনের ক্ষতিসাধনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষার জন্য সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের নীতি নির্ধারকদের কাছে আজো সুন্দরবন গুরুত্বহীন। মানুষের থাবায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ ক্ষতবিক্ষত। বন্যপ্রাণী অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আ্ওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে মোংলা পৌর শহীদ মিনার চত্বরে সুন্দরবন দিবসের জনসমাবেশে বক্তারা একথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সুন্দরবন রক্ষায় আমরা, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকপারের আয়োজনে সুন্দরবন দিবসের এ জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে জনসমাবেশসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিলো উত্তরণ, সিএনআরএস, বাদাবন সংঘ ও সার্ভিস বাংলাদেশ।

শনিবার বিকেল ৪ টায় জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বকারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ ।

জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী পরিবেশযোদ্ধা শরীফ জামিল। জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, ক্রীড়াবিদ শেখ রুস্তুম আলী, মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা নাসির তালুকদার। সুন্দরবনের জেলে বিদ্যুৎ মন্ডল, আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ঢাংমারি ডলফিন সংরক্ষণ দলের টিম লিডার ই¯্রাফিল বয়াতি, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলে বাবু, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, সার্ভিস বাংলাদেশ’র মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, নারীনেত্রী আফরোজা হীরা, কমলা সরকার, বৃষ্টি সরকার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের হাসিব সরদার, ইয়ুথ লিডার মেহেদী হাসান প্রমূখ। জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, প্রতিবছর সুন্দরবন দিবসে আমরা সুন্দরবনকে রক্ষার আহ্বান জানাই। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে সুন্দরবন ততই বিপন্ন হচ্ছে। জাতিসংঘ সরকারকে সুন্দরবনসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা যথাযথভাবে করার পরামর্শ দিয়েছে।

আমরা চাই নতুন সরকার অন্তর্ভূক্তিমূলক ও বিজ্ঞানসম্মত একটি স্বচ্ছ সমীক্ষা করবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণ, বিষ দিয়ে মাছ মারা ও অন্যান্য হুমকি থেকে সুন্দরবনের সত্যিকার সুরক্ষা দিবে। জনসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনে প্লাস্টিক পলিথিন দূষণ বেড়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবনাক্ততা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি প্ওায়াতে সুন্দবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কয়লা দূষণ, শিল্প দূষণের কবল থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। সুন্দরবন বিনাশী কোন ধরনের কর্মকান্ড সহ্য করা হবেনা।

সুন্দরবনের দস্যুবৃত্তি বেড়ে গেছে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। জনসমাবেশের আগে সুন্দরবন বিষয়ক শিশু চিত্রাংকণ, বাঘ মহড়া, লাঠিখেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।