কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযান
সুন্দরবনে জিম্মি পর্যটক উদ্ধার, ৩ ডাকাতসহ আটক ৬

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি থাকা দুই পর্যটক ও একটি রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাত দলের ৩ সদস্যসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক জানান, গত শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) বিকেল ৩টার দিকে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কাঠের বোটযোগে কানুর খোলা খাল সংলগ্ন এলাকায় ভ্রমণের সময় ৫ জন পর্যটক, একজন মাঝি ও রিসোর্ট মালিকসহ মোট ৭ জনকে জলদস্যু মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি ডাকাত দল জিম্মি করে।
ডাকাতরা পরবর্তীতে ৩ জন পর্যটক ও মাঝিকে ছেড়ে দিলেও দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে।
ঘটনার বিষয়টি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডকে জানালে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
অভিযান চলাকালে গত ৩ জানুয়ারি ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মোঃ সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসান (১৯)–কে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে রোববার সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাত দলের আরেক সহযোগী আলম মাতুব্বর (৩৮)–কে আটক করা হয়।
একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারি ও Financial Footprint অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনের সময় প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধার মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডু (৩০)–কে ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়।
পরবর্তীতে রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে জিম্মিকৃত দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম উল হক আরও জানান, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আটককৃত ডাকাত সহযোগীদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটকের লক্ষ্যে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে।






















