পুলিশ পরিচয়ে হানা, মা–বাবাকে জিম্মি
সাতক্ষীরার তালায় পুলিশ পরিচয়ে ২ কোটি টাকা ডাকাতি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামে পুলিশ পরিচয়ে গভীর রাতে ২ কোটি টাকা ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, পোল্ট্রি ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের খামার বাড়িতে রাতের আঁধারে ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল হানা দেয়। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে এবং ঘরে প্রবেশ করে রুহুল আমিনের মা-বাবাকে জিম্মি করে নগদ অর্থ লুট করে নেয়। ডাকাতরা পালানোর সময় বাজি ফুটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
খবর পেয়ে ওই রাতেই খলিশখালী পুলিশ ক্যাম্পের এসআইসহ পাটকেলঘাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে পাটকেলঘাটা ও তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরুল্লাহ ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিনের মা আফরোজা বেগম জানান, “রাতে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন ৪-৫ জন লোক দরজায় এসে বলে আমরা থানার পুলিশ। দরজা খুললে তারা বলে বাড়িতে আওয়ামী লীগের লোক ও অস্ত্র আছে। পরে এসব না পেয়ে আমাদের ভয় দেখিয়ে কথা বলতে নিষেধ করে। ঘরের ভেতরে রাখা প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং বাইরে জ্বালানি ঘরের মাচায় রাখা প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে যায়।”
পোল্ট্রি ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, “আমি ওই সময় অন্য বাড়িতে ছিলাম। খবর পেয়ে এসে পরিবারের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পারি।”
তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি রহস্যজনক। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “এত বড় অঙ্কের টাকা লুট হলেও কোনো মারধর, ভাঙচুর বা অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নেই। শুধু একটি বাজি ফুটিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে গেছে, এটি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনায় এসেছে—ঘটনাটি আদৌ ডাকাতি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।




















