ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারি ডিপোতে মিলল অবৈধ তেলের মজুদ,অভিযানের খবরে পালালেন ম্যানেজার

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
27

জালানী খাতে অস্থিরতার মধ্যেই এবার সরকারি একটি ডিপোতে পাওয়া গেল হিসাবের বাহিরে গোপনে মজুদ করা তেল। রাস্ট্রায়ত্ত তেল বিপপন সংস্থা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন ( ডিপো) অভিযান চালিয়ে তেলের এ মজুদ শনাক্ত করা হয়।

ডিপোটিতে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আমীর মাসুদ।

সুত্র জানায়, তেলের অবৈধ প্রক্রিয়া মজুদের তথ্য পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা ৩৯ মিনিটে ডিপোটিতে অভিযান শুরু করে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, এনএসআই ও পুলিশ। এসময় ডিপোর দায়িত্বরত ম্যানেজার ( অপারেশন) আলামিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনায় অবস্থান করছেন বলে জানান। তার নির্দেশনায় ডিপোর অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর মোঃ ফারুক হুসাইন দৈনন্দিন রিপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রারপত্র উপস্থাপন করেন।

এসময় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার ( অপারেশন) প্রবীর হীরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে গেজারম্যান মো: জাহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় মেজারিং টেপ ব্যবহার করে যমুনা অয়েলের মোট ৩৩ টি ট্যাংকের ডিজেল পরিমাপ করা হয়।

পরিমাপ শেষে ২৮ মার্চ প্রেরিত স্টেটমেন্টের সঙ্গে বাস্তব মজুদের তুলনা করে গড়মিল পাওয়া যায়। অভিযাানে ১ নম্বর ট্যাংকে পরিমাপে ডিজেল পাওয়া যায় ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার। যেখানে স্টেটমেন্ট অনুযায়ী থাকার কথা ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৫ লিটার। অথ্যাৎ এটিতে ৯৩২ লিটার বেশি পাওয়া গেছে। ৯ নম্বর ট্যাংকে পাওয়া যায় ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, অথচ স্টেটমেন্ট উল্লেখ ছিল ২৪ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ লিটার। এই ট্যাংকে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি পাওয়া যায়।

ডিপোর ১৪ নম্বর ট্যাংকে পরিমাপে পাওয়া যায় ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, যেখানে স্টেটমেন্ট অনুযায়ী থাকার কথা ছিল ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ লিটার। এই ট্যাংকে ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম পাওয়া গেছে। তিন ট্যাংকে সব মিলিয়ে সর্বমোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল বেশি পাওয়া যায়। অভিযানের খবর পেয়ে ডিপো ম্যানেজার আল- আমিন আগে ভাগে ছুটির কথা বলে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানাগেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তেল বিপননের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গোপনে অতিরিক্ত তেল মজুদ করেন। পরবর্তীতে যা কালো বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এ পরিস্থিতিতে আজ ২৯ মার্চ মোংলা

ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। একই সঙ্গে পলাতক ডিপোর ম্যানেজার ( অপারেশন) আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত ১১ মার্চ নারায়নগঞ্জের গোদানাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপো যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এ ঘটনায় পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল দুদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে চুরির প্রমান পায়। পরবর্তীতে চুরির প্রধান হোতা পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক ( এভিশেশন) মো: সাহিদুল হককে বদলি করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:২০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
৫১২ বার পড়া হয়েছে

সরকারি ডিপোতে মিলল অবৈধ তেলের মজুদ,অভিযানের খবরে পালালেন ম্যানেজার

আপডেট সময় ১০:২০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
27

জালানী খাতে অস্থিরতার মধ্যেই এবার সরকারি একটি ডিপোতে পাওয়া গেল হিসাবের বাহিরে গোপনে মজুদ করা তেল। রাস্ট্রায়ত্ত তেল বিপপন সংস্থা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন ( ডিপো) অভিযান চালিয়ে তেলের এ মজুদ শনাক্ত করা হয়।

ডিপোটিতে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আমীর মাসুদ।

সুত্র জানায়, তেলের অবৈধ প্রক্রিয়া মজুদের তথ্য পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১২ টা ৩৯ মিনিটে ডিপোটিতে অভিযান শুরু করে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, এনএসআই ও পুলিশ। এসময় ডিপোর দায়িত্বরত ম্যানেজার ( অপারেশন) আলামিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুলনায় অবস্থান করছেন বলে জানান। তার নির্দেশনায় ডিপোর অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর মোঃ ফারুক হুসাইন দৈনন্দিন রিপোর্ট সহ প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রারপত্র উপস্থাপন করেন।

এসময় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার ( অপারেশন) প্রবীর হীরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে গেজারম্যান মো: জাহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় মেজারিং টেপ ব্যবহার করে যমুনা অয়েলের মোট ৩৩ টি ট্যাংকের ডিজেল পরিমাপ করা হয়।

পরিমাপ শেষে ২৮ মার্চ প্রেরিত স্টেটমেন্টের সঙ্গে বাস্তব মজুদের তুলনা করে গড়মিল পাওয়া যায়। অভিযাানে ১ নম্বর ট্যাংকে পরিমাপে ডিজেল পাওয়া যায় ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার। যেখানে স্টেটমেন্ট অনুযায়ী থাকার কথা ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৫ লিটার। অথ্যাৎ এটিতে ৯৩২ লিটার বেশি পাওয়া গেছে। ৯ নম্বর ট্যাংকে পাওয়া যায় ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, অথচ স্টেটমেন্ট উল্লেখ ছিল ২৪ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ লিটার। এই ট্যাংকে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি পাওয়া যায়।

ডিপোর ১৪ নম্বর ট্যাংকে পরিমাপে পাওয়া যায় ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, যেখানে স্টেটমেন্ট অনুযায়ী থাকার কথা ছিল ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯২ লিটার। এই ট্যাংকে ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম পাওয়া গেছে। তিন ট্যাংকে সব মিলিয়ে সর্বমোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার ডিজেল বেশি পাওয়া যায়। অভিযানের খবর পেয়ে ডিপো ম্যানেজার আল- আমিন আগে ভাগে ছুটির কথা বলে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানাগেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের তেল বিপননের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গোপনে অতিরিক্ত তেল মজুদ করেন। পরবর্তীতে যা কালো বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এ পরিস্থিতিতে আজ ২৯ মার্চ মোংলা

ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। একই সঙ্গে পলাতক ডিপোর ম্যানেজার ( অপারেশন) আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত ১১ মার্চ নারায়নগঞ্জের গোদানাইল থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা ডিপো যাওয়ার পথে ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এ ঘটনায় পদ্মা অয়েল পিএলসির একটি দল দুদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে চুরির প্রমান পায়। পরবর্তীতে চুরির প্রধান হোতা পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক ( এভিশেশন) মো: সাহিদুল হককে বদলি করা হয়।