শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার প্রতিবাদে ইবি ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

বিএনপি সন্ত্রাসীদের হাতে শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, দেশব্যাপী হামলা–নৈরাজ্য এবং নারীদের হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পরিণত হয়।
মিছিলে ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া এবং শতাধিক কর্মীরা। এসময় তারা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির জিন্দাবাদ’, ‘আমার ভাই শহীদ কেন? ইন্টেরিম জবাব চাই’, ‘চাঁদাবাজদের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কী প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্টার প্ল্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “আমরা জুলাই আন্দোলন করেছি এ দেশে বৈষম্য দূরীকরণ এবং ইনসাফ কায়েম করার জন্য। কিন্তু এখন আমরা দেখছি ভিন্ন চিত্র। একটি দল মনে করছে তারা ক্ষমতায় চলে আসছে। এই ভেবে তারা বিভিন্ন প্রকার অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত হতে শুরু করেছে। তারা লাগামহীনভাবে চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেরপুরে জামায়াত নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় চলে এসেছি এই ভাবনা থেকে তারা যে অপকর্ম শুরু করেছিল, সেগুলো দিন দিন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যত দিন যাচ্ছে তারা তত বেশি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। ফলে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সেই কারণেই তাদের মধ্যকার কিছু কুলাঙ্গার আমাদের মা-বোনদের গায়ে পর্যন্ত হাত তুলেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই যারা আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত তুলেছে, তারা যদি আর একবার এমন সাহস দেখায়, তাহলে বাড়ি থেকে হাত-পা ছাড়া কীভাবে চলতে হয়, সেটার প্র্যাকটিস করে আসতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো কিছুতেই ভয় পাই না। আমরা শুধু চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেই নয়, দেশে যত ধরনের অন্যায়, অনিয়ম ও আধিপত্যবাদসহ সবকিছুর বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবির সবসময় কাজ করে যাবে।”
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২)। নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


























