শীর্ষ নেতারা নিহত হলেও ভেঙে পড়বে না ইরানের শাসনব্যবস্থা

ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের দুই প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। তারা হলেন ইরানের প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও নীতি-নির্ধারক আলী লারিজানি এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলাম সোলেইমানি। তবে এই বড় ধরনের ধাক্কার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক এইচ এ হেলিয়ার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করেছিল, আলী লারিজানি এবং গোলাম সোলেইমানি হামলায় নিহত হয়েছেন। এ দাবির প্রেক্ষিতে প্রথম দিকে ইরানি গণমাধ্যম এ দাবি উড়িয়ে দিলেও পরে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যুর বিষয়ে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সিএনএন এ নিবন্ধটি প্রকাশ করেছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এইচ এ হেলিয়ার সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের শাসনব্যবস্থা মূলত ‘স্থিতিস্থাপকতার’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ইরানি কর্মকর্তারা আগে থেকেই নিজেদের মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। এই আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য তারা পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছেন, যাতে শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতিতে দ্রুত যোগ্য উত্তরসূরি নিয়োগ করা যায়।
তার মতে, ইরানি নেতৃত্ব কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা যে কোনো বড় হত্যাকাণ্ড মোকাবিলায় সক্ষম।
সিএনএনের হোস্ট এলানি জিওকোসের সঙ্গে ‘আর্লি স্টার্ট’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় হেলিয়ার উল্লেখ করেন, ইরানের উত্তরাধিকার নির্বাচনের পরিকল্পনা কমান্ড কাঠামোর অত্যন্ত গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর ইরান অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ করে পরিকল্পনাটি কার্যকর করেছে।
কয়েক মাস আগের গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে হেলিয়ার বলেন, ইরানের চার স্তর নিচ পর্যন্ত কমান্ডারদের নির্দেশ দেওয়া আছে, যেন তারা যে কোনো জরুরি অবস্থায় তাদের উত্তরসূরি আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন।

























