ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লিবিয়া থেকে বুধবার দেশে ফিরছেন ১৭৫ বাংলাদেশি

চেকপোস্ট ডেস্ক::
9

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দুটি ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো হচ্ছে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) ভোর পাঁচটায় বুরাক এয়অরের ফ্লাইটে তারা ঢাকা পৌঁছাবেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরানো হচ্ছে। ওই বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে ও ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

দূতাবাস বলছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ মঙ্গলবার ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের তদারকি করেন। এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিদায় জানান।

রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিবাসীরা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেক অভিবাসী অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের নিকট জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসাহীনতা এবং দেশে তাদের জমি-জমা বিক্রির কথাও উল্লেখ করেন। অনেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের কথাও জানান।

রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্তত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না আসে, সেজন্য প্রত্যাবাসিতদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও মানবেতর জীবনযাপনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অনুরোধ জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত সকলকে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদেশে যাওয়ার পূর্বে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, সঠিক তথ্য যাচাই ও দালালচক্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

একই সঙ্গে তিনি প্রত্যাবাসিতদের সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন, যাতে তারা পুনরায় স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে পারেন। এছাড়াও রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া অভিবাসীদের দেশে ফিরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কাউকে এ ধরনের প্রতারণার শিকার করতে না পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০১:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৫০৭ বার পড়া হয়েছে

লিবিয়া থেকে বুধবার দেশে ফিরছেন ১৭৫ বাংলাদেশি

আপডেট সময় ০১:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
9

আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দুটি ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো হচ্ছে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) ভোর পাঁচটায় বুরাক এয়অরের ফ্লাইটে তারা ঢাকা পৌঁছাবেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাসের দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের দেশে ফেরানো হচ্ছে। ওই বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে ও ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

দূতাবাস বলছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ মঙ্গলবার ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের তদারকি করেন। এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিদায় জানান।

রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিবাসীরা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেক অভিবাসী অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের নিকট জিম্মি হওয়া, মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া, খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসাহীনতা এবং দেশে তাদের জমি-জমা বিক্রির কথাও উল্লেখ করেন। অনেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের কথাও জানান।

রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, অন্তত জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না আসে, সেজন্য প্রত্যাবাসিতদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা ও মানবেতর জীবনযাপনের করুণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরার অনুরোধ জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত সকলকে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিদেশে যাওয়ার পূর্বে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, সঠিক তথ্য যাচাই ও দালালচক্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

একই সঙ্গে তিনি প্রত্যাবাসিতদের সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন, যাতে তারা পুনরায় স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে পারেন। এছাড়াও রাষ্ট্রদূত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া অভিবাসীদের দেশে ফিরে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে তারা আর কাউকে এ ধরনের প্রতারণার শিকার করতে না পারে।