ঝুঁকিপূর্ণ ফিশসেডে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা আশঙ্কা
লাখাইয়ে বামৈ পুরান বাজারের ফিশসেড জরাজীর্ণ

লাখাই উপজেলার বামৈ ইউনিয়নের বামৈ পুরান বাজারে অবস্থিত ফিশসেডটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলায় পড়ে আছে। প্রায় ৪২ বছর আগে নির্মিত এই ফিশসেডটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, যা যে কোনো সময় ঝড়-বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একসময় বামৈ পুরান বাজারটি ছিল এলাকার অন্যতম ব্যস্ত হাট। সপ্তাহে দুই দিন এখানে হাট বসত, যেখানে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটত। বাজারের ব্যস্ততা বাড়তে থাকায় অনেক ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করেন। ফলে বাজারের পরিধিও দ্রুত বিস্তৃত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি লাঘবের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (টিএনও) বিবেকানন্দ পাল বামৈ পুরান বাজারে একটি ফিশসেড নির্মাণ করেন।
পরবর্তীতে বামৈ পূর্ব গ্রাম ও বামৈ পশ্চিম গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হলে গ্রাম দু’টির মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এর জেরে বাজারের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় থেকে ফিশসেডটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে আজ তা সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় এটি ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ফিশসেডটির চালার কিছু অংশের টিন কে বা কারা খুলে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেডটির এমন বেহাল অবস্থার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
উল্লেখ্য, বাজারটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কয়েক বছর পর থেকে বামৈ পুরান বাজার সংলগ্ন মাঠে সাপ্তাহিক গরুর বাজার বসছে। প্রতি রবিবার এই গরুর বাজারে হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। ঝড়-বৃষ্টি হলে অনেকেই আশ্রয়ের জন্য পুরোনো ফিশসেডটিতে যেতে চাইলেও এর জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে সেখানে অবস্থান করতে সাহস পান না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা বাজারের পাশের ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আশ্রয় নেন।
বামৈ পূর্ব গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদির মিয়া বলেন, “পূর্ব ও পশ্চিম গ্রামের বিরোধের কারণে একসময় পুরান বাজারটি বন্ধ হয়ে গেলেও এখন গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ। বাজারের একাংশে নিয়মিত গরুর হাট বসছে। সঠিক উদ্যোগ নিলে পুরান বাজারটি আবার আগের রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য জরাজীর্ণ ফিশসেডটি দ্রুত পুনঃমেরামত করা জরুরি।”
এ বিষয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



















