ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাউশির নির্দেশ অমান্য, শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নীরবতা

রাজশাহীতে কোচিং বাণিজ্যের লাগামহীন বিস্তার

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী প্রতিনিধি::
86

রাজশাহীতে দিন দিন লাগামহীনভাবে বাড়ছে কোচিং সেন্টারের বাণিজ্য। সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাই এই কোচিং ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাঠ কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।

আবু সালেহ নামের এক অভিভাবক জানান, তাঁর ছেলে রাজশাহীর একটি নামকরা সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তিনি বলেন, “স্কুল ফি, পরীক্ষার ফি দেওয়ার পরও একই শিক্ষকদের কোচিং ফি দিতে হয়। কোচিং না করলে ক্লাসে আমার সন্তানকে অবহেলা করা হয়।”

আরেক অভিভাবক শাহনাজ বেগম পলি বলেন, তাঁর ছেলে নিয়মিত কলেজে না গিয়ে কোচিং সেন্টারে যায়। কারণ জানতে চাইলে ছেলে জানায়, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শিক্ষকদের প্রস্তুতি ঘাটতি রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠ বুঝতে না পারায় বাধ্য হয়ে কোচিংমুখী হচ্ছে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—যে শিক্ষকরা স্কুল বা কলেজে পড়ান, তাঁরাই আবার কোচিং সেন্টারে পাঠদান করছেন।

এই পরিস্থিতিতে ক্লাসরুমে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে শিক্ষকদের বেসরকারি কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গত ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর কথা বলা হয়।

তবে মাউশি সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনার জবাব দিয়েছে। বাকিগুলো কার্যত নীরবতা পালন করছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাবেই এই কোচিং বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলমান। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, “ক্লাসরুমে শিক্ষার মানের ঘাটতি, জিপিএ-৫ পাওয়ার অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষকদের দ্রুত ধনী হওয়ার মানসিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।”

ফলে রাজশাহীর অলিগলিতে গড়ে উঠছে অসংখ্য কোচিং সেন্টার, আর শিক্ষা ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ—শ্রেণিকক্ষ—দিন দিন ফাঁকা হয়ে পড়ছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
৫৫০ বার পড়া হয়েছে

মাউশির নির্দেশ অমান্য, শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নীরবতা

রাজশাহীতে কোচিং বাণিজ্যের লাগামহীন বিস্তার

আপডেট সময় ০৬:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
86

রাজশাহীতে দিন দিন লাগামহীনভাবে বাড়ছে কোচিং সেন্টারের বাণিজ্য। সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাই এই কোচিং ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে শ্রেণিকক্ষের পাঠ কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।

আবু সালেহ নামের এক অভিভাবক জানান, তাঁর ছেলে রাজশাহীর একটি নামকরা সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তিনি বলেন, “স্কুল ফি, পরীক্ষার ফি দেওয়ার পরও একই শিক্ষকদের কোচিং ফি দিতে হয়। কোচিং না করলে ক্লাসে আমার সন্তানকে অবহেলা করা হয়।”

আরেক অভিভাবক শাহনাজ বেগম পলি বলেন, তাঁর ছেলে নিয়মিত কলেজে না গিয়ে কোচিং সেন্টারে যায়। কারণ জানতে চাইলে ছেলে জানায়, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শিক্ষকদের প্রস্তুতি ঘাটতি রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠ বুঝতে না পারায় বাধ্য হয়ে কোচিংমুখী হচ্ছে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—যে শিক্ষকরা স্কুল বা কলেজে পড়ান, তাঁরাই আবার কোচিং সেন্টারে পাঠদান করছেন।

এই পরিস্থিতিতে ক্লাসরুমে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে শিক্ষকদের বেসরকারি কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। গত ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষকদের তালিকা পাঠানোর কথা বলা হয়।

তবে মাউশি সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনার জবাব দিয়েছে। বাকিগুলো কার্যত নীরবতা পালন করছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাবেই এই কোচিং বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলমান। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, “ক্লাসরুমে শিক্ষার মানের ঘাটতি, জিপিএ-৫ পাওয়ার অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষকদের দ্রুত ধনী হওয়ার মানসিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।”

ফলে রাজশাহীর অলিগলিতে গড়ে উঠছে অসংখ্য কোচিং সেন্টার, আর শিক্ষা ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ—শ্রেণিকক্ষ—দিন দিন ফাঁকা হয়ে পড়ছে।