রাজউকে রিয়াজুল ইসলামের কঠোরতা, শৃঙ্খলিত নগরায়নের বার্তা

একটি জাতির আত্মমর্যাদা কেবল তার ইতিহাসে নয়, তার রাজধানীর কাঠামো ও শৃঙ্খলায়ও প্রতিফলিত হয়। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীন নগরায়ন, অবৈধ দখল ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ রাজধানীর সুশাসন ও পরিবেশগত ভারসাম্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিজু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ স্থাপনা ও নকশাবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবহার, অনুমোদনহীন উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
রাজউকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, প্রভাবশালী মহলের চাপ উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ প্রশাসনিক দৃঢ়তারই বহিঃপ্রকাশ। একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনায় বিশৃঙ্খলার স্থান নেই, এ বার্তাই স্পষ্ট করা হচ্ছে।
ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জলাধার, খাল ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণকে পরিবেশগত ভারসাম্য ও টেকসই নগরায়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ড্যাপকে কাগুজে পরিকল্পনার বাইরে এনে কার্যকর বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
নকশা অনুমোদন, প্লট হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় গতি ও স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা চলছে।
দীর্ঘদিনের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বেরিয়ে এসে রাজউককে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সড়ক, ড্রেনেজ, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দ্রুত সম্পন্নে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীর চাপ কমিয়ে টেকসই নগর গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা হয়েছে। হেল্পডেস্ক ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জনআস্থা অর্জনকে প্রশাসনের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নগর বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নেতৃত্বে রাজউকের কার্যক্রমে দৃশ্যমান কঠোরতা এসেছে। তবে এই ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তোলা শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি জাতীয় দায়িত্ব। আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা, পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা এবং সেবায় স্বচ্ছতার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সময়ই বলবে-এই উদ্যোগ কতটা স্থায়ী রূপ পায়।


























