ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রহস্যজনক কারনে তাহেরীর মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারি

মাধবপুর প্রতিনিধি::
7

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর এলাকায় ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী-এর ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি “নাটকীয় পরিস্থিতি” সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কমিটির উদ্যোগে আগামী শনিবার(২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য মাহফিলের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন ছিল। তবে আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়। পরবর্তীতে আজ শুক্রবার মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে একটি ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

ভুয়া পোস্টারে সভাপতি হিসেবে দেখানো স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন,
“আমার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও জানান, প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরীর।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন, “একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থায় যাব।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, “তাহেরী হুজুরের মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র এ কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ১৪৪ ধারার প্রয়োজন ছিল না। তারপরও এটি জারি করা হয়েছে। আমরা চাই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হোক।”

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৪৪ দ্বারা সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।
এ বিষয়ে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের কাছে মাহফিল ও ভুয়া পোস্টার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে,মাধবপুরে তাহেরীর মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লা নোমান।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:২৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
৫০২ বার পড়া হয়েছে

রহস্যজনক কারনে তাহেরীর মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারি

আপডেট সময় ১০:২৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
7

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর এলাকায় ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী-এর ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি “নাটকীয় পরিস্থিতি” সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কমিটির উদ্যোগে আগামী শনিবার(২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য মাহফিলের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন ছিল। তবে আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়। পরবর্তীতে আজ শুক্রবার মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে একটি ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

ভুয়া পোস্টারে সভাপতি হিসেবে দেখানো স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন,
“আমার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও জানান, প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরীর।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন, “একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থায় যাব।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন, “তাহেরী হুজুরের মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র এ কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ১৪৪ ধারার প্রয়োজন ছিল না। তারপরও এটি জারি করা হয়েছে। আমরা চাই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হোক।”

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৪৪ দ্বারা সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।
এ বিষয়ে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের কাছে মাহফিল ও ভুয়া পোস্টার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে,মাধবপুরে তাহেরীর মাহফিলে ১৪৪ ধারা জারির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লা নোমান।