ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোমবাতি সমর্থনই কাল হলো মাহফুজের? সায়হাম গ্রুপে শ্রমিক চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার::
31

হবিগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে সায়হাম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিককে পরিকল্পিতভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত শ্রমিকের নাম মাহফুজ মিয়া। তিনি সায়হাম গ্রুপের সায়হাম নীট কম্পোজিট লিমিটেডে লাইন আয়রন ম্যান পদে কর্মরত ছিলেন। কারখানাটি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়ায় অবস্থিত। মাহফুজ মিয়ার বাড়ি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে।

মাহফুজ মিয়ার অভিযোগ, তিনি হবিগঞ্জ–৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর (মোমবাতি প্রতীক) প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কোনো কারণ না জানিয়েই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, যে প্রতিষ্ঠানে তিনি কর্মরত ছিলেন, সেটি একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এস এম ফয়সলের মালিকানাধীন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

চাকরিচ্যুত শ্রমিক জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি কারখানার ব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানের স্বাক্ষরে তাকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে অব্যাহতির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি পূর্ব নোটিশ, নোটিশের পরিবর্তে মজুরি কিংবা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাহফুজ মিয়া বলেন, আমি আমার এলাকায় গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে কথা বলেছিলাম। এই কারণেই আমাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি গরিব মানুষ, আমার ন্যায্য বিচার নেই। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে শ্রম আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী কোনো মালিক ইচ্ছামতো বা কারণ ছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন না। আইন অনুসারে, শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনাতিরিক্ত শ্রমিক থাকলে বা যৌক্তিক ব্যবসায়িক কারণে ছাঁটাই করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের আগে ৩০ দিনের নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে ৩০ দিনের মজুরি এবং প্রতি কর্মবছরের জন্য ৩০ দিনের ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক।

ঘটনাটি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে সায়হাম নীট কম্পোজিট লিমিটেডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে শ্রমিক অধিকার, শিল্পকারখানায় রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচনী সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১০:১৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫০৯ বার পড়া হয়েছে

মোমবাতি সমর্থনই কাল হলো মাহফুজের? সায়হাম গ্রুপে শ্রমিক চাকরিচ্যুতির অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:১৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
31

হবিগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক চাকরিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে সায়হাম গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিককে পরিকল্পিতভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত শ্রমিকের নাম মাহফুজ মিয়া। তিনি সায়হাম গ্রুপের সায়হাম নীট কম্পোজিট লিমিটেডে লাইন আয়রন ম্যান পদে কর্মরত ছিলেন। কারখানাটি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়ায় অবস্থিত। মাহফুজ মিয়ার বাড়ি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে।

মাহফুজ মিয়ার অভিযোগ, তিনি হবিগঞ্জ–৪ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর (মোমবাতি প্রতীক) প্রকাশ্য সমর্থক ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কোনো কারণ না জানিয়েই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, যে প্রতিষ্ঠানে তিনি কর্মরত ছিলেন, সেটি একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এস এম ফয়সলের মালিকানাধীন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

চাকরিচ্যুত শ্রমিক জানান, গত ৫ ফেব্রুয়ারি কারখানার ব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানের স্বাক্ষরে তাকে অব্যাহতির নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে অব্যাহতির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি পূর্ব নোটিশ, নোটিশের পরিবর্তে মজুরি কিংবা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণও প্রদান করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাহফুজ মিয়া বলেন, আমি আমার এলাকায় গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে কথা বলেছিলাম। এই কারণেই আমাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি গরিব মানুষ, আমার ন্যায্য বিচার নেই। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে শ্রম আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী কোনো মালিক ইচ্ছামতো বা কারণ ছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন না। আইন অনুসারে, শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনাতিরিক্ত শ্রমিক থাকলে বা যৌক্তিক ব্যবসায়িক কারণে ছাঁটাই করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের আগে ৩০ দিনের নোটিশ অথবা নোটিশের পরিবর্তে ৩০ দিনের মজুরি এবং প্রতি কর্মবছরের জন্য ৩০ দিনের ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক।

ঘটনাটি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে সায়হাম নীট কম্পোজিট লিমিটেডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে শ্রমিক অধিকার, শিল্পকারখানায় রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচনী সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।