ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেলান্দহে উপবৃত্তি জালিয়াতি অভিভাবকের বদলে শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব!

জাকিরুল ইসলাম বাবু, জামালপুর::
22

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর আব্দুল জলিল কারিগরি কলেজের ল্যাব সহকারী মো. টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের পরিবর্তে নিজের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে তিনি উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ল্যাব সহকারী টিপু সুলতান উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মোবাইলে উপবৃত্তির কোনো টাকা আসেনি।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা থাকলেও টিপু সুলতান চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি অনেক শিক্ষার্থীর ফরমে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বর জুড়ে দিয়েছেন। ফলে সরকারের বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীদের কাছে না পৌঁছে সরাসরি ওই শিক্ষকের পকেটে যাচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, “স্যার আমাদের বলেছিলেন টাকা দিলে উপবৃত্তি নিশ্চিত আসবে। সেই আশায় টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে জানতে পারি তিনি আমাদের তথ্যের জায়গায় নিজের নম্বর ব্যবহার করে সব টাকা তুলে নিয়েছেন।”

​এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা দ্রুত এই দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ল্যাব সহকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে ল্যাব সহকারী মো. টিপু সুলতানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কেন শিক্ষার্থীদের তথ্যের স্থলে নিজের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:২৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
৫০৮ বার পড়া হয়েছে

মেলান্দহে উপবৃত্তি জালিয়াতি অভিভাবকের বদলে শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব!

আপডেট সময় ০৬:২৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
22

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর আব্দুল জলিল কারিগরি কলেজের ল্যাব সহকারী মো. টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের পরিবর্তে নিজের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে তিনি উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

​স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ল্যাব সহকারী টিপু সুলতান উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মোবাইলে উপবৃত্তির কোনো টাকা আসেনি।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ অ্যাকাউন্টে যাওয়ার কথা থাকলেও টিপু সুলতান চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি অনেক শিক্ষার্থীর ফরমে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বর জুড়ে দিয়েছেন। ফলে সরকারের বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীদের কাছে না পৌঁছে সরাসরি ওই শিক্ষকের পকেটে যাচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, “স্যার আমাদের বলেছিলেন টাকা দিলে উপবৃত্তি নিশ্চিত আসবে। সেই আশায় টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে জানতে পারি তিনি আমাদের তথ্যের জায়গায় নিজের নম্বর ব্যবহার করে সব টাকা তুলে নিয়েছেন।”

​এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা দ্রুত এই দুর্নীতির তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ল্যাব সহকারীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

​অভিযোগের বিষয়ে ল্যাব সহকারী মো. টিপু সুলতানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কেন শিক্ষার্থীদের তথ্যের স্থলে নিজের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।