মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃতিতে জয়পুরহাটের মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগের অভিযোগ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসায় স্বীকৃতির মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন ও ভুয়া নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসায় আয়া ও নৈশপ্রহরী এই দুইটি পদে প্রায় ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি অবৈধ নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়। অথচ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাদ্রাসাটির স্বীকৃতির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখেই শেষ হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্বীকৃতি না থাকা সত্ত্বেও মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ছদ্ন নাম মেয়াদোত্তীর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ দুটি পত্রিকা—দৈনিক উত্তর কোণ এবং জাতীয় দৈনিক নওরোজ এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই দিন জয়পুরহাট জেলায় কোনো পত্রিকা সরবরাহই হয়নি। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডেও টাঙানো হয়নি, যা নিয়োগ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসার স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ বিজ্ঞাপন প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ নিয়োগ বোর্ড গঠন: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ যোগদান: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
নিয়োগপ্রাপ্তদের নাম শাহনাজ বেগম (আয়া) এবং মিজানুর রহমান (নৈশপ্রহরী)।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো মাদ্রাসায় জনবল নিয়োগ দিতে হলে প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত ও হালনাগাদকৃত হতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃতি কেবল পাঠদান অনুমতি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা এমপিওভুক্তি বা নতুন কর্মচারী নিয়োগের জন্য আইনগতভাবে বৈধ নয়। স্বীকৃতির মেয়াদ শেষ হলে নিয়োগের আগে অবশ্যই ‘গ ফরম’ এর মাধ্যমে স্বীকৃতি নবায়ন বা স্থায়ী স্বীকৃতির আবেদন করতে হয়।
মাদ্রাসা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যকর শিক্ষার্থী ও পরিশিষ্ট ‘খ’ ও ‘গ’ অনুযায়ী নির্ধারিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসা তিনবার আবেদন করেও পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি পায়নি। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমন অবস্থায় ওই প্রতিষ্ঠানে কোনো নিয়োগ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাগজপত্র জাল, স্বাক্ষর নকল এবং অর্থের বিনিময়ে ডিজির প্রতিনিধি এনে মাদ্রাসার সুপার আমজাদ হোসেন ও সভাপতি নুরুল ইসলাম অবৈধভাবে নিয়োগ বোর্ড গঠন করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় গ্রাম ও এলাবাসী আমজাদ মকবুল সহ একাধিক সচেতন মহল দাবি করেন অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অবৈধ নিয়োগ বোর্ডের মাস্টারমাইন মাদ্রাসার সুপার আমজাদ হোসেন অভিযোগ স্বীকার করে বলেন সম্পূর্ণ নিয়োগী অবৈধ বড় তোরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ভাই সভাপতি হয়ে আমাকে চাপে ফেলে এই নিয়োগ বোড করেছেন তারা মাদ্রাসায় কোন অনুদানের টাকা পয়সা দেয়নি৷ তারা বলেছিল মাদ্রাসায় উন্নয়ন করবে এখন পর্যন্ত মাদ্রাসার উন্নয়নের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি৷
গত ৫ আগস্ট এর পর খাল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা ও বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের আপন ভাই কৃষ্ণনগর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ডাক নাম সোহাগ বলেন এ বিষয়ে ফোনে কথা বলা যাবে না আপনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলেন এই বলেই ফোনটি কেটে দেন৷
তবে এ বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের ডিজিডি প্রতিনিধি শুকুর আলী মজুমদার বলেন,মাদ্রাসা বোর্ড আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছে। আমি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষা ও ভাইভা শেষে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকায় স্বাক্ষর করেছি।
ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন,আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে আপনাকে জানাবো।



















