মায়ের সঙ্গে ঝগড়া, শিশুকে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখলেন চাচি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মা ও চাচির পারিবারিক কলহের জেরে প্রাণ দিতে হলো আড়াই বছরের শিশু নুজাইফা আক্তারকে। অভিযোগ উঠেছে, শিশুটির আপন ছোট চাচি কল্পনা আক্তার (১৫) শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ দাড়ের পাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত নুজাইফা ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান গ্রামবাসী। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঘটনার ধরন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কল্পনা ও তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে একপর্যায়ে কল্পনা নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত চাচি কল্পনা আক্তারকে আটক করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কল্পনা আক্তার স্বীকার করেছেন, শিশু নুজাইফার মা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ও ক্ষোভ ছিল। সেই আক্রোশ থেকেই তিনি নুজাইফাকে কৌশলে মেহগনি বাগানে নিয়ে যান এবং নিজের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বিষয়টি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চাচিকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।






















