৫ সদস্যের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা
মাধবপুর জগন্নাথ মন্দিরে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

মাধবপুর উপজেলার গিলাতলী জগন্নাথ মন্দিরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মন্দির পরিচালনা কমিটির ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন: সভাপতি হরিশচন্দ্র দেব, সাধারণ সম্পাদক পংকজ পাল, ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার, সদস্য মুক্তিপদ রায় ও মনজ পাল।
স্থানীয়রা জানায়, মন্দিরের দিঘি ইজারা থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা, দিঘির কোটি টাকার সিরামিকসের মাটি বিক্রির অর্থ, প্রায় ১০ একর জমির ইজারা, আরও ২ একর বেদখল জমির আয় এবং ভক্তদের দান-অনুদানের একটি বড় অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, খননের জন্য ২২ লাখ টাকা মুক্তিপদ রায়কে দেওয়া হয়, পরে তিনি দিঘি থেকে সিরামিকসের মাটি বিক্রি করেন। ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অন্তত এক কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে দাবি রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, অর্থ আত্মসাৎ করেই মুক্তিপদ রায় মাধবপুর পৌরসভায় একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করেছেন, আর সভাপতি হরিশচন্দ্র সেন একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। তথ্য অধিকার আইনে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে কমিটি তথ্য না দিয়ে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ এসেছে।
মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, “আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।”
হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ দুঃখজনক। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম জানান, “মন্দির পরিচালনা কমিটির অধীনে হলেও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।”
ক্যাশিয়ার সুকুমার সরকার জানিয়েছেন, “কাগজে আমার স্বাক্ষর থাকলেও সিদ্ধান্তগুলো অন্যরা নিয়েছে। আমার কোনো দায় নেই।”



















