ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাধবপুরে সিলিকা বালু লুটের সংবাদে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি

স্টাফ রিপোর্টার::
9

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সীমনা নদী থেকে কোটি টাকার সিলিকা বালু লুটের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক নাহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানপুর ইউনিয়ন এর সীমনা ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র গভীর রাতে ট্রাকভর্তি করে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার প্রতিনিধি ও মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নাহিদ মিয়া।

সংবাদ প্রকাশের পর শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ মিয়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাধবপুর থানায় ১১১৯ নম্বর জিডি দায়ের করেন। জিডিতে অভিযোগ করা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাংবাদিক নাহিদ মিয়া তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক নাহিদ মিয়া জানান, জিডিতে উল্লেখিত সময় ও স্থানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বরং তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মাধবপুর পৌরসভা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

তিনি বলেন, “আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল লোকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করলে সত্যতা প্রমাণিত হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক মহলের অভিমত, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০১:০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫০৩ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুরে সিলিকা বালু লুটের সংবাদে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি

আপডেট সময় ০১:০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
9

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সীমনা নদী থেকে কোটি টাকার সিলিকা বালু লুটের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক নাহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহানপুর ইউনিয়ন এর সীমনা ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র গভীর রাতে ট্রাকভর্তি করে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার প্রতিনিধি ও মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক নাহিদ মিয়া।

সংবাদ প্রকাশের পর শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ মিয়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাধবপুর থানায় ১১১৯ নম্বর জিডি দায়ের করেন। জিডিতে অভিযোগ করা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাংবাদিক নাহিদ মিয়া তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক নাহিদ মিয়া জানান, জিডিতে উল্লেখিত সময় ও স্থানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বরং তিনি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মাধবপুর পৌরসভা এলাকায় অবস্থান করছিলেন।

তিনি বলেন, “আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মোবাইল লোকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত করলে সত্যতা প্রমাণিত হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সাংবাদিক মহলের অভিমত, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন।