ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাধবপুরে বুজুর্গের ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার দাবি, ওসিয়ত বাস্তবায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা

মাধবপুর প্রতিনিধি::
5

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে এক বুজুর্গ ব্যক্তির রেখে যাওয়া ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মরহুম হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.)-এর ওসিয়ত অনুযায়ী ওই সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও তার স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলের প্রখ্যাত দরবেশ মাহমুদ শাহ বক্সের অন্যতম শিষ্য ছিলেন হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.)। জীবদ্দশায় তিনি তিনবার হজ পালন করেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসূত্রে ও নিজ পরিশ্রমে অর্জিত বিপুল সম্পত্তির মালিক ছিলেন, যা বর্তমানে তার সন্তান ও নাতি-নাতনিরা ভোগ করে আসছেন।
তবে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেবীপুর মৌজায় অবস্থিত প্রায় ৮২ শতাংশ জমি, যা তিনি জীবদ্দশায় ওয়াকফ হিসেবে দলিল করে যান। ওই সম্পত্তির সুবিধাভোগী হিসেবে স্থানীয় মসজিদ, মক্তব ও দরিদ্র আত্মীয়দের নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফ হিসেবে দলিলভুক্ত থাকা সত্ত্বেও জমিটি বর্তমানে লুৎফুর রহমান ও মৃত আজিজুর রহমানের নামে রেকর্ড হয়েছে। তারা জমিটি নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে দখলে রেখেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে ও বিভিন্ন কৌশলে রেকর্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় কোনো কমিটি গঠনের উদ্যোগও উপেক্ষা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মরহুমের নাতনি অ্যাডভোকেট তাসলিমা খান বলেন, “ওয়াকফ সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার করে সঠিক রেকর্ড সংশোধন করা জরুরি। পাশাপাশি জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করে এটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।”

জানা যায়, এর আগে তার এক নাতি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জটিলতায় সুবিধাভোগী ও আত্মীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বুজুর্গ ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তা নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও উদ্বেগজনক।

এ অবস্থায়, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার এবং মরহুমের ওসিয়ত বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৮:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
৫০৩ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুরে বুজুর্গের ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার দাবি, ওসিয়ত বাস্তবায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট সময় ০৮:৪৩:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
5

মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে এক বুজুর্গ ব্যক্তির রেখে যাওয়া ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মরহুম হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.)-এর ওসিয়ত অনুযায়ী ওই সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও তার স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট অঞ্চলের প্রখ্যাত দরবেশ মাহমুদ শাহ বক্সের অন্যতম শিষ্য ছিলেন হাফেজ আব্দুল বারী (রহ.)। জীবদ্দশায় তিনি তিনবার হজ পালন করেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসূত্রে ও নিজ পরিশ্রমে অর্জিত বিপুল সম্পত্তির মালিক ছিলেন, যা বর্তমানে তার সন্তান ও নাতি-নাতনিরা ভোগ করে আসছেন।
তবে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেবীপুর মৌজায় অবস্থিত প্রায় ৮২ শতাংশ জমি, যা তিনি জীবদ্দশায় ওয়াকফ হিসেবে দলিল করে যান। ওই সম্পত্তির সুবিধাভোগী হিসেবে স্থানীয় মসজিদ, মক্তব ও দরিদ্র আত্মীয়দের নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফ হিসেবে দলিলভুক্ত থাকা সত্ত্বেও জমিটি বর্তমানে লুৎফুর রহমান ও মৃত আজিজুর রহমানের নামে রেকর্ড হয়েছে। তারা জমিটি নিজেদের মালিকানাধীন দাবি করে দখলে রেখেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে ও বিভিন্ন কৌশলে রেকর্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষায় কোনো কমিটি গঠনের উদ্যোগও উপেক্ষা করা হচ্ছে।

এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মরহুমের নাতনি অ্যাডভোকেট তাসলিমা খান বলেন, “ওয়াকফ সম্পত্তি দ্রুত উদ্ধার করে সঠিক রেকর্ড সংশোধন করা জরুরি। পাশাপাশি জমিতে সাইনবোর্ড স্থাপন করে এটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।”

জানা যায়, এর আগে তার এক নাতি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি অনিষ্পন্ন রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জটিলতায় সুবিধাভোগী ও আত্মীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বুজুর্গ ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তা নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও উদ্বেগজনক।

এ অবস্থায়, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার এবং মরহুমের ওসিয়ত বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।