বিএনপির নতুন মন্ত্রীসভা: অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ের ইঙ্গিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ইতিমধ্যে সরকার গঠনের লক্ষ্যে দলীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা ও প্রস্তুতি। দলীয় সূত্র বলছে, এবারের মন্ত্রীসভায় অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও উদীয়মান তরুণ রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মন্ত্রী পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি সরাসরি তদারকি করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। খুব শিগগিরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে পারে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নতুন মন্ত্রীসভা দেখতে দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টাকে মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা হলেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দীন আহমেদ, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
দলীয় পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, অস্থির সময়ে দায়িত্ব পালনে তারা দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে আসিফ নজরুলের বিষয়ে দলের একটি অংশের আপত্তির কথাও শোনা যাচ্ছে।
বিএনপির সাবেক সরকারের বিতর্কমুক্ত ও ইতিবাচক ভাবমূর্তির নেতাদের দায়িত্বে আনার চিন্তা রয়েছে। সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এছাড়া নজরুল ইসলাম খান-কে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় রয়েছেন ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে তরুণদেরও সুযোগ দেওয়া হবে। আলোচনায় আছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথাও বলছেন নেতারা। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন ড. রেজা কিবরিয়া, ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর এবং মোস্তফা কামাল হায়দার।
খুলনা বিভাগে সামগ্রিক ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও খুলনা জেলায় ৬টির মধ্যে ৪টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন খুলনা-৩ আসনের বিজয়ী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনের আজিজুল বারী হেলাল এবং খুলনা-৫ আসনের আলী আজগর লবী।
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের মাধ্যমে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পরই শুরু হবে নতুন মন্ত্রীসভা গঠন।
দলীয় নেতারা বলছেন, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল কাঠামোর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই হবে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য।
























