বাগেরহাটের রামপালে হাড়কাঁপানো শীত, কাজ হারাচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় তীব্র শীতের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় এলাকায় একপ্রকার স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত কুয়াশা থাকায় যানবাহন চলাচল হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই শীতের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষদের ওপর। দিনমজুর, ভ্যানচালক, জেলে ও বৃদ্ধরা পড়েছেন চরম দুর্দশায়। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক দিনমজুর নিয়মিত আয় করতে পারছেন না। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক অসহায় মানুষ ছেঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়ে কিংবা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে শীতের প্রকোপে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, শিশু ও বয়স্করা সর্দি-কাশি, জ্বরসহ নানা রোগে ভুগছেন।
তীব্র শীতের কারণে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সকাল বেলায় ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের কারণে বেচাকেনা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। কৃষকরাও শীতের বিরূপ প্রভাবে শীতকালীন সবজি ও বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই তীব্র শীতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





















