ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে পরিচয় তারপর ভয়ঙ্কর প্রতারণা

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী প্রতিনিধি::
9

মাগুরার মহব্বত আলী নামে এক যুবকের প্রতাণার ফাঁদে পড়ে রাজশাহীর বাগমারার এক বিধবা মহিলার সর্বস্বান্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেম তার পরে শারীরিক সম্পর্ক ও প্রতারণা করে বিয়ে করে এখন ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বস্বান্ত করে পালিয়েছে । ওই যুবক এর আগেও আরও একাধিক যুবতীকে বিয়ে করে একইভাবে তাদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা ও ইজ্জত। অবশেষে ঔযুবকের প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিধবা মহিলা তাসফিয়া রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এবং মামলা সূত্রে জানা গেছে প্রতারক মহব্বত আলী মাগুরার শিবরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান খন্দকারের ছেলে এবং সেই এই মামলার মুল আসামী।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতারক মহব্বত আলীর সঙ্গে পরিচয় হয় ভুক্তভোগী বিধবা তাসফিয়ার সাথে । একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে তারা বিয়ে করে রাজশাহীতে । মাগুরার প্রতারক মহব্বত আলী তার পরিবারের কাছে গোপন রেখে বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৯ লাখ টাকা। বিয়ের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতারক মহব্বত আলী আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এবং তার চলাফেরা সন্দেহজনক হয়ে ওঠে, নিয়মিত চলে ধূমপান ও মদ্যপানের মত নেশা। এরপর এক পর্যায়ে শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে হুমকি, ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে তালাক দিয়ে বিদেশ চলে যাবে এমনভাবেই ভক্তভোগীকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এই সবের হাত থেকে বাঁচার জন্য ভুক্তভোগী তাসফিয়া আদালতের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

ভুক্তভোগী মহিলা তাসফিয়া আরও জানান, এরপর তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন ওই প্রতারক মহব্বত আলী এর আগে আরও একাধিক মহিলার কাছ থেকে একইভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রাজশাহীর এক কাজী অফিসে সে আরেক মহিলাকে বিয়ে করেছিলো। ২০২০ সালেও একইভাবে আরও একটি বিয়ে করে। তিন তিনটি বিয়ের ক্ষেত্রেই সে নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছে। এই প্রতারণা চক্রের সাথে তার প্রথম স্ত্রী মোছাঃ ডরণ জড়িত। স্বামী ও স্ত্রী মিলে তারা সুন্দরী স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদের টার্গেট করে তাদেরকে জিম্মি করে টাকা ও মহিলাদের ইজ্জত হাতিয়ে নেয়। এজন্য এই ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে রাজশাহীর বাগমারার ভুক্তভোগী তাসফিয়া রাজশাহী অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রতারক মহব্বত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজশাহী আদালতে মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চাওয়া হলেও তিনি বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫০৩ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকে পরিচয় তারপর ভয়ঙ্কর প্রতারণা

আপডেট সময় ০৬:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
9

মাগুরার মহব্বত আলী নামে এক যুবকের প্রতাণার ফাঁদে পড়ে রাজশাহীর বাগমারার এক বিধবা মহিলার সর্বস্বান্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে । ফেসবুকে পরিচয়ের পর প্রেম তার পরে শারীরিক সম্পর্ক ও প্রতারণা করে বিয়ে করে এখন ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বস্বান্ত করে পালিয়েছে । ওই যুবক এর আগেও আরও একাধিক যুবতীকে বিয়ে করে একইভাবে তাদের কাছ থেকেও হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা ও ইজ্জত। অবশেষে ঔযুবকের প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিধবা মহিলা তাসফিয়া রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এবং মামলা সূত্রে জানা গেছে প্রতারক মহব্বত আলী মাগুরার শিবরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান খন্দকারের ছেলে এবং সেই এই মামলার মুল আসামী।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতারক মহব্বত আলীর সঙ্গে পরিচয় হয় ভুক্তভোগী বিধবা তাসফিয়ার সাথে । একপর্যায়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে তারা বিয়ে করে রাজশাহীতে । মাগুরার প্রতারক মহব্বত আলী তার পরিবারের কাছে গোপন রেখে বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৯ লাখ টাকা। বিয়ের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতারক মহব্বত আলী আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এবং তার চলাফেরা সন্দেহজনক হয়ে ওঠে, নিয়মিত চলে ধূমপান ও মদ্যপানের মত নেশা। এরপর এক পর্যায়ে শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে হুমকি, ধামকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে তালাক দিয়ে বিদেশ চলে যাবে এমনভাবেই ভক্তভোগীকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এই সবের হাত থেকে বাঁচার জন্য ভুক্তভোগী তাসফিয়া আদালতের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

ভুক্তভোগী মহিলা তাসফিয়া আরও জানান, এরপর তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন ওই প্রতারক মহব্বত আলী এর আগে আরও একাধিক মহিলার কাছ থেকে একইভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রাজশাহীর এক কাজী অফিসে সে আরেক মহিলাকে বিয়ে করেছিলো। ২০২০ সালেও একইভাবে আরও একটি বিয়ে করে। তিন তিনটি বিয়ের ক্ষেত্রেই সে নিজেকে অবিবাহিত বলে উল্লেখ করেছে। এই প্রতারণা চক্রের সাথে তার প্রথম স্ত্রী মোছাঃ ডরণ জড়িত। স্বামী ও স্ত্রী মিলে তারা সুন্দরী স্বামী পরিত্যক্ত মহিলাদের টার্গেট করে তাদেরকে জিম্মি করে টাকা ও মহিলাদের ইজ্জত হাতিয়ে নেয়। এজন্য এই ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে রাজশাহীর বাগমারার ভুক্তভোগী তাসফিয়া রাজশাহী অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে প্রতারক মহব্বত আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজশাহী আদালতে মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চাওয়া হলেও তিনি বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামি মহব্বত আলীর বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন।