ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের মাঠে টানটান উত্তেজনা

ফয়সল-তাহেরীর দ্বিমুখী লড়াই

স্টাফ রিপোর্টার::
21

আর মাত্র একদিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জটিল হয়ে উঠছে হবিগঞ্জ–৪ সংসদীয় আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ। মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার লড়াই আর একমুখী নয়; বরং স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। দলীয় সংগঠনে তার প্রভাব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি শুরু থেকেই তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ তার জন্য তৈরি করেছে একটি নির্ভরযোগ্য ভোট ব্যাংক।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন অনেকটাই কাটিয়ে ফয়সলের নেতৃত্বে দল এখন তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ, এমনটাই দাবি সমর্থকদের। মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পরিবেশের আশ্বাস এবং সরাসরি ভোটার সংযোগের কৌশল তাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করেছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাও তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, বিএনপির বিপরীতে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী হয়ে উঠেছেন সুন্নী জোটের ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নির্বাচনী মাঠে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন। তার বক্তব্যে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন উঠে আসায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তাহেরীর বড় শক্তি তার তথাকথিত ‘নীরব ভোট ব্যাংক’। ধর্মীয় আবেগপ্রবণ ভোটার, চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকার মানুষ এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশের অঘোষিত সমর্থন তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চুনারুঘাট উপজেলায় তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। বিভিন্ন সমাবেশে তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং তার বক্তব্যে আগ্রহ ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যদিও এই আসনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বাস্তব চিত্রে সক্রিয় প্রচারণায় মূলত মাঠে রয়েছেন বিএনপি ও সুন্নী জোটের এই দুই প্রার্থীই। বাকি প্রার্থীদের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়ছে না। ফলে ভোটের লড়াই ক্রমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে ফয়সল ও তাহেরীর মধ্যেই।

শেষ পর্যন্ত নীরব ভোটারদের সিদ্ধান্ত, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের কৌশলই নির্ধারণ করবে হবিগঞ্জ-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল। অভিজ্ঞ রাজনীতি বনাম ধর্মীয় আবেগের এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি কার মুখে, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:৫০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫০৯ বার পড়া হয়েছে

ভোটের মাঠে টানটান উত্তেজনা

ফয়সল-তাহেরীর দ্বিমুখী লড়াই

আপডেট সময় ১১:৫০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
21

আর মাত্র একদিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জটিল হয়ে উঠছে হবিগঞ্জ–৪ সংসদীয় আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ। মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের মন জয় করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার লড়াই আর একমুখী নয়; বরং স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। দলীয় সংগঠনে তার প্রভাব, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি শুরু থেকেই তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে। চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ তার জন্য তৈরি করেছে একটি নির্ভরযোগ্য ভোট ব্যাংক।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন অনেকটাই কাটিয়ে ফয়সলের নেতৃত্বে দল এখন তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ, এমনটাই দাবি সমর্থকদের। মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত পরিবেশের আশ্বাস এবং সরাসরি ভোটার সংযোগের কৌশল তাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করেছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতাও তার পক্ষে ইতিবাচক দিক হিসেবে তুলে ধরছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে, বিএনপির বিপরীতে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী হয়ে উঠেছেন সুন্নী জোটের ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নির্বাচনী মাঠে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন। তার বক্তব্যে ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন উঠে আসায় তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তাহেরীর বড় শক্তি তার তথাকথিত ‘নীরব ভোট ব্যাংক’। ধর্মীয় আবেগপ্রবণ ভোটার, চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকার মানুষ এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশের অঘোষিত সমর্থন তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চুনারুঘাট উপজেলায় তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। বিভিন্ন সমাবেশে তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং তার বক্তব্যে আগ্রহ ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যদিও এই আসনে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, বাস্তব চিত্রে সক্রিয় প্রচারণায় মূলত মাঠে রয়েছেন বিএনপি ও সুন্নী জোটের এই দুই প্রার্থীই। বাকি প্রার্থীদের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়ছে না। ফলে ভোটের লড়াই ক্রমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে ফয়সল ও তাহেরীর মধ্যেই।

শেষ পর্যন্ত নীরব ভোটারদের সিদ্ধান্ত, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের কৌশলই নির্ধারণ করবে হবিগঞ্জ-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল। অভিজ্ঞ রাজনীতি বনাম ধর্মীয় আবেগের এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে শেষ হাসি কার মুখে, তার উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।