অনলাইন ও মাঠপর্যায়ে শুরু নির্বাচনী প্রচার
প্রতীক বরাদ্দ শেষ, আজ থেকে মাঠে নামছেন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীরা

প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। গতকাল বুধবার সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পরপরই রাত বারোটার পর থেকেই অনলাইনে প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা।
আজ সকাল থেকে তারা সরাসরি মাঠে নেমে আনুষ্ঠানিক প্রচারে অংশ নেবেন। অনেক শীর্ষ নেতা গতকাল রাতেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছেছেন। সিলেট থেকে প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। মাজার জিয়ারত, দলীয় সভা ও একাধিক জনসভার মধ্য দিয়ে প্রচারণা চালাবেন তারা। রাজধানী ঢাকা থেকেও নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। ২৯৮টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৭২ জন। সীমানা জটিলতার কারণে পাবনার দুইটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্তের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
আচরণবিধি ও বিধিনিষেধ
নির্বাচনী আচরণবিধিতে প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত উপকরণ দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন বা লিফলেট ব্যবহার করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অনুমতি দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগ
নির্বাচনী মাঠে সমতা না থাকার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ একাধিক রাজনৈতিক দল। তারা অভিযোগ করেছে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনকে হুমকির মুখে ফেলছে। বিভিন্ন এলাকায় হামলা, হুমকি ও সহিংসতার অভিযোগও উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান শুরু
প্রতীক বরাদ্দের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান। এবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।























