ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি নুরুল হকের জামিন না মঞ্জুর

চেকপোস্ট ডেস্ক::
20

হবিগঞ্জের বাহুবলের মহাশয়ের বাজারে মানবাধিকার সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অসহায় নারীদের ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও পর্নোগ্রাফি চক্র পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হকের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. বজলুর রহমান এ আদেশ দেন। হবিগঞ্জ জজকোর্টের নাজির ও পেশকার ফাহিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার জামিন শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিউল আলম আজাদ এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রহুল হাসান শরীফ নিজ নিজ পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারক জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন । অনুসন্ধানে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের তার নিজ এলাকার মহাশয়ের বাজার এলাকায় ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’ নামে দুটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন নুরুল হক।

অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন কিংবা চাকরির টোপ দিয়ে তিনি অফিসে ডেকে আনতেন। এরপর চলত ব্ল্যাকমেইল ও পাশবিক নির্যাতন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী নুরুল হকের প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন দাসত্বে বাধ্য করা হয়। অতিষ্ঠ হয়ে ওই ভুক্তভোগীসহ একাধিক নারী বাহুবল থানায় মামলা করলে র‍্যাব-৯ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

নুরুল হকের গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে তার নানা অপকর্মের চিত্র। স্থানীয়রা জানান, মানবাধিকারের বুলি আওড়িয়ে তিনি এলাকায় কথিত সালিশ-বিচার করতেন। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর ছবি ও তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
৫০৯ বার পড়া হয়েছে

ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি নুরুল হকের জামিন না মঞ্জুর

আপডেট সময় ০৬:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
20

হবিগঞ্জের বাহুবলের মহাশয়ের বাজারে মানবাধিকার সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অসহায় নারীদের ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও পর্নোগ্রাফি চক্র পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হকের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. বজলুর রহমান এ আদেশ দেন। হবিগঞ্জ জজকোর্টের নাজির ও পেশকার ফাহিমা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার জামিন শুনানির সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিউল আলম আজাদ এবং বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রহুল হাসান শরীফ নিজ নিজ পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারক জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন । অনুসন্ধানে জানা যায়, বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের তার নিজ এলাকার মহাশয়ের বাজার এলাকায় ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’ নামে দুটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন নুরুল হক।

অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের তরুণীদের বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন কিংবা চাকরির টোপ দিয়ে তিনি অফিসে ডেকে আনতেন। এরপর চলত ব্ল্যাকমেইল ও পাশবিক নির্যাতন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী নুরুল হকের প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন দাসত্বে বাধ্য করা হয়। অতিষ্ঠ হয়ে ওই ভুক্তভোগীসহ একাধিক নারী বাহুবল থানায় মামলা করলে র‍্যাব-৯ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

নুরুল হকের গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে তার নানা অপকর্মের চিত্র। স্থানীয়রা জানান, মানবাধিকারের বুলি আওড়িয়ে তিনি এলাকায় কথিত সালিশ-বিচার করতেন। সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোই ছিল তার প্রধান কাজ। তার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন স্পর্শকাতর ছবি ও তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।