ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান, ঐতিহাসিক জনসভায় নির্বাচনী অঙ্গীকার

রাজশাহী প্রতিনিধি::
99

 

দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহী সফর করলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সর্বশেষ তিনি ২০০৪ সালে দলের সিনিয়র মহাসচিব হিসেবে রাজশাহী সফর করেছিলেন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার পর বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগা শরিফে যান। সেখানে জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন তিনি। পরে দরগার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

দোয়া শেষে তারেক রহমান ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুপুর গড়িয়ে বেলা ২টার দিকে তিনি সভাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা স্লোগান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে স্বাগত জানান। রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

জনসভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান ২২ বছর আগের রাজশাহী সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “রাজশাহীর মানুষের ভালোবাসা আমি কখনো ভুলিনি। দীর্ঘদিন পর আবার আপনাদের মাঝে এসে সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে পেলাম।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে পদ্মা নদী খনন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, কৃষিভিত্তিক মিল ও ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে সহায়তা, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, কৃষি কার্ড বিতরণ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান আরোও বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে, নাকি অন্য কোনো পথে যাবে।”

কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সঠিক তদন্ত করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সমাবেশের বক্তবো শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের ধানের শীষের মনোনিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আপনারা তাদের দেখে রাখবেন ১২ জানুয়ারির পর তারা আপনাদের দেখে রাখবে।

রাজশাহীর জনসভা শেষে বিকেলে তারেক রহমান নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সন্ধ্যায় নওগাঁ এটিএম মাঠে আয়োজিত আরেকটি জনসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে রাজশাহীর জনসভায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোরের দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের রাজশাহী সফর বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
৫৬২ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীতে তারেক রহমান, ঐতিহাসিক জনসভায় নির্বাচনী অঙ্গীকার

আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
99

 

দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহী সফর করলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সর্বশেষ তিনি ২০০৪ সালে দলের সিনিয়র মহাসচিব হিসেবে রাজশাহী সফর করেছিলেন। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার পর বিমানযোগে রাজশাহীতে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগা শরিফে যান। সেখানে জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন তিনি। পরে দরগার শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

দোয়া শেষে তারেক রহমান ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুপুর গড়িয়ে বেলা ২টার দিকে তিনি সভাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা স্লোগান ও ফুলেল শুভেচ্ছায় তাকে স্বাগত জানান। রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলা থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

জনসভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান ২২ বছর আগের রাজশাহী সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “রাজশাহীর মানুষের ভালোবাসা আমি কখনো ভুলিনি। দীর্ঘদিন পর আবার আপনাদের মাঝে এসে সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে পেলাম।”

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে পদ্মা নদী খনন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, রাজশাহীতে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, কৃষিভিত্তিক মিল ও ফ্যাক্টরি গড়ে তুলতে সহায়তা, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, কৃষি কার্ড বিতরণ এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তারেক রহমান আরোও বলেন, একটি মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে, নাকি অন্য কোনো পথে যাবে।”

কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সঠিক তদন্ত করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সমাবেশের বক্তবো শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের ধানের শীষের মনোনিত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত আপনারা তাদের দেখে রাখবেন ১২ জানুয়ারির পর তারা আপনাদের দেখে রাখবে।

রাজশাহীর জনসভা শেষে বিকেলে তারেক রহমান নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে সন্ধ্যায় নওগাঁ এটিএম মাঠে আয়োজিত আরেকটি জনসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে রাজশাহীর জনসভায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নাটোরের দলীয় নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের রাজশাহী সফর বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।