ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন

চেকপোস্ট ডেস্ক::

ছবি: সংগৃহীত

35

দিনাজপুরের হিলি উপজেলায় এবার প্রথমবারের মতো ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আম চাষ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির ফলে বেশি উৎপাদন, কম খরচ এবং বিদেশে রপ্তানিযোগ্য ফল পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা করছে।

গোহাড়া গ্রামের কৃষক নিরঞ্জন সরকার ২০২৯ সালে ২০০টি গাছের চারা রোপণ করেছেন। বর্তমানে ১ একর জমিতে বারি-৪ গৌরমতি ও আম্রপালি জাতের আম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করছেন। তিনি প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) ও ক্লাস্টার ডেমোনস্ট্রেশন ফর গ্যাপ স্ট্যান্ডার্ড অব ফ্রুটস প্রকল্পের আওতায় আমবাগান পরিচালনা করছেন।

ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি হলো ফল গাছে থাকার সময় বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে আবৃত করা। এই পদ্ধতিতে ফলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বিষমুক্ত উৎপাদন, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ ৭০–৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব। ব্যাগিং করলে আমের ত্বক পরিষ্কার, হলুদাভ এবং সংরক্ষণকালও বাড়ে, যা রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নিরঞ্জন সরকার ইতিমধ্যেই ৪৫০ কেজি আম ইউরোপে রপ্তানি করেছেন। প্রতি বছর তার আমবাগান থেকে তিনি ৩–৪ লাখ টাকা আয় করেন। এই চাষের ফলে এলাকার বেকার যুবকরাও কর্মসংস্থান পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো পার্টনার প্রকল্পের আওতায় আম চাষ প্রদর্শনী বাস্তবায়ন হচ্ছে। কৃষকদের মাটি ও পানি পরীক্ষা, বালাইনাশক প্রয়োগের সময়সহ সব বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং বাগান নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

নিরঞ্জন সরকার বলেন, “প্রথমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। পরে প্রকল্পের আওতায় আমবাগান করি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আম বিদেশে রপ্তানি করছি।”

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০১:২৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
৬৪৬ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন

আপডেট সময় ০১:২৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
35

দিনাজপুরের হিলি উপজেলায় এবার প্রথমবারের মতো ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আম চাষ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির ফলে বেশি উৎপাদন, কম খরচ এবং বিদেশে রপ্তানিযোগ্য ফল পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা করছে।

গোহাড়া গ্রামের কৃষক নিরঞ্জন সরকার ২০২৯ সালে ২০০টি গাছের চারা রোপণ করেছেন। বর্তমানে ১ একর জমিতে বারি-৪ গৌরমতি ও আম্রপালি জাতের আম ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করছেন। তিনি প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) ও ক্লাস্টার ডেমোনস্ট্রেশন ফর গ্যাপ স্ট্যান্ডার্ড অব ফ্রুটস প্রকল্পের আওতায় আমবাগান পরিচালনা করছেন।

ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি হলো ফল গাছে থাকার সময় বিশেষ ধরনের ব্যাগ দিয়ে আবৃত করা। এই পদ্ধতিতে ফলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বিষমুক্ত উৎপাদন, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ ৭০–৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব। ব্যাগিং করলে আমের ত্বক পরিষ্কার, হলুদাভ এবং সংরক্ষণকালও বাড়ে, যা রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নিরঞ্জন সরকার ইতিমধ্যেই ৪৫০ কেজি আম ইউরোপে রপ্তানি করেছেন। প্রতি বছর তার আমবাগান থেকে তিনি ৩–৪ লাখ টাকা আয় করেন। এই চাষের ফলে এলাকার বেকার যুবকরাও কর্মসংস্থান পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো পার্টনার প্রকল্পের আওতায় আম চাষ প্রদর্শনী বাস্তবায়ন হচ্ছে। কৃষকদের মাটি ও পানি পরীক্ষা, বালাইনাশক প্রয়োগের সময়সহ সব বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং বাগান নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

নিরঞ্জন সরকার বলেন, “প্রথমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি। পরে প্রকল্পের আওতায় আমবাগান করি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আম বিদেশে রপ্তানি করছি।”