স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রধান আসামির
দিঘলিয়ায় যুবদল নেতা মুরাদ হত্যা: প্রধান আসামি সাজ্জাদ ঢাকায় গ্রেপ্তার

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খান মুরাদ হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দিঘলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১২/১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নম্বর–১, তারিখ–০১/০৩/২০২৬, ধারা–৩০২/৩৪।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা যুবদল নেতা খান মুরাদকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদকে রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা জেলা ডিবি পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা মহানগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহ আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সাজ্জাদকে জেলা ডিবি পুলিশ দিঘলিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে। এছাড়া এ মামলায় সরোয়ার খান কলেজ ছাত্রদল নেতা মোঃ নয়ন ও মাসুদকে সেনহাটি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নয়ন ও মাসুদের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রধান আসামি সাজ্জাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাজ্জাদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মাদক কারবারের অভিযোগ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়, ব্যবসার নামে টাকা আত্মসাৎ এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




















