তেল না পেয়ে মন্ত্রীকে ফোন কৃষকের, তবু কাটেনি সমস্যা

পাবনার ঈশ্বরদীতে তেলের সংকটে আধুনিক কৃষিযন্ত্র চালাতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ উদ্দিনসহ (কুল ময়েজ) প্রায় ৪০ কৃষক। এমন অবস্থায় গত রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে সমস্যার সমাধান জানতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান তারা। সেখান থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেই কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোন করেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন। ফোনে কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে মন্ত্রীকে কথা বলিয়ে দেন ময়েজ উদ্দিন। তাৎক্ষণিক মন্ত্রী সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
কিন্তু আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিটি ফসল আবাদেই বর্তমানে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করছেন কৃষকরা। সেচের জন্য শ্যালো মেশিন, মাড়াই কাজে হারভেস্টার, জমি চাষ দিতে পাওয়ার ট্রিলার, এমনকি ওষুধ ছিটাতেও যন্ত্রচালিত স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি যন্ত্র চালাতেই ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু যন্ত্রগুলো বহন করে তেল পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানে (ঢোপ) তেল আনেন। বর্তমানে ক্যানে তেল দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের তেল দিচ্ছেন না।
কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, ট্রাকে করে শত শত লিটার তেল দেওয়া হলেও আমাদের ঢোপে তেল দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে খেসারি, গমসহ অনেক ফসল মাড়াই করা হচ্ছে। প্রচুর পরিমাণ তেলের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উপজেলার শত শত কৃষক বিপাকে পড়েছেন। ট্রাকে একটু কম দিয়ে আমাদের কৃষকদের তেল দিলে সমস্যা কোথায়?
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কৃষক বলেন, তেলের সমস্যা সমাধানে কিছুদিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের চিরকুট (স্লিপ) দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাতেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দিচ্ছে না। ফলে রোববার বিকেলে তারা ৪০ কৃষক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিনের কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে সমস্যার সমাধান না পেয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোন দেন। মন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাকে কথা বলিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। কিন্তু দুদিন পর মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাদের অনেকেই পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে ফিরে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘জীবনেও কোনো মন্ত্রী আমাদের সঙ্গে এতক্ষণ ধরে এত সুন্দর করে কথা বলেননি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে তিনি অনেকক্ষণ ধরে কথা বলেছেন। অনেক কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আবার তাৎক্ষণিক বিষয়টির ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।’
ময়েজ উদ্দিন বলেন, পুরো দেশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের ঈশ্বরদীও কৃষিপ্রধান এলাকা। কিন্তু আমাদের কৃষকদের কোনো তালিকা নেই, পরিচয়পত্র নেই। ঈশ্বরদীর কৃষি কর্মকর্তা বড় বড় কৃষকদের নামও জানেন না। ফলে আমাদের পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তেলের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই। তা না হলে ফসলের ক্ষতি হয়ে কৃষক ও দেশ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তিনি (ময়েজ উদ্দিন) কৃষিমন্ত্রীর কথা বলে একজনকে ফোন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ফোনের ওপার থেকে সমস্যা সমাধান করতে বলেছেন। আমরা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। তেলের জন্য পাম্পগুলোতে দিতে নতুন করে প্যাড ছাপাতে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাম্পগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সমাধান হয়ে যাবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ঢোপে তেল নিতে গেলে অতি উৎসাহী মোটরসাইকেল চালকরা মারমুখী আচরণ করেন। এজন্য মূলত সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সমস্যা সমাধান হওয়ার কথা।
















