ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শৈত্যপ্রবাহে শিশু-বৃদ্ধসহ দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ চরমে

তীব্র শীতে আগুন পোহাতে ব্যস্ত হবিগঞ্জের গ্রামগুলো

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ::
149

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে আগুন পোহানো এখন হবিগঞ্জের গ্রামগুলোর এক পরিচিত দৃশ্য। শীতের সকালে খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষকে।

পৌষের শীতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সবাই জবুথবু। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ কিংবা খোলা মাঠে দল বেঁধে আগুন পোহানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। বুধবার সকালে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লাদিয়া গ্রামে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে ৭-৮ জন মানুষ খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে শীত নিবারণের চেষ্টা করছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, টানা শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা। শীতবস্ত্র ও পর্যাপ্ত খাবারের সংকটে জেলার চা-শ্রমিকসহ গ্রামের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার কারণে সকালে জমিতে পরিচর্যা করতে পারছেন না তারা। অনেক সময় দুপুরের আগে সূর্যের দেখা মিলছে না। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, আগুন পোহানোর আয়োজনটি সাধারণত শিশুরাই শুরু করে, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই এতে অংশ নেন।

কাজিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহেদ মিয়া বলেন, “টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। প্রচণ্ড শীতে গ্রামের মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

এদিকে তীব্র শীতের কারণে জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানান, শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৯:৩২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
৫৯৭ বার পড়া হয়েছে

শৈত্যপ্রবাহে শিশু-বৃদ্ধসহ দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ চরমে

তীব্র শীতে আগুন পোহাতে ব্যস্ত হবিগঞ্জের গ্রামগুলো

আপডেট সময় ০৯:৩২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
149

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে আগুন পোহানো এখন হবিগঞ্জের গ্রামগুলোর এক পরিচিত দৃশ্য। শীতের সকালে খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষকে।

পৌষের শীতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সবাই জবুথবু। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ কিংবা খোলা মাঠে দল বেঁধে আগুন পোহানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে। বুধবার সকালে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লাদিয়া গ্রামে এমন দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে ৭-৮ জন মানুষ খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে শীত নিবারণের চেষ্টা করছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, টানা শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা। শীতবস্ত্র ও পর্যাপ্ত খাবারের সংকটে জেলার চা-শ্রমিকসহ গ্রামের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার কারণে সকালে জমিতে পরিচর্যা করতে পারছেন না তারা। অনেক সময় দুপুরের আগে সূর্যের দেখা মিলছে না। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, আগুন পোহানোর আয়োজনটি সাধারণত শিশুরাই শুরু করে, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই এতে অংশ নেন।

কাজিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহেদ মিয়া বলেন, “টানা তিন দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। প্রচণ্ড শীতে গ্রামের মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।”

এদিকে তীব্র শীতের কারণে জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানান, শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।