ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তানোরে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে সন্ত্রাসীরা

মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী প্রতিনিধি::
18

রাজশাহীর তানোরে সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকেই এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে উপজেলার তানোর বাজারের কুঠিপাড়া রোডে অবস্থিত বরেন্দ্র ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ভবনের চতুর্থ তলায় মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন বরেন্দ্র কেব্‌ল টিভি নেটওয়ার্কের সার্ভার ও কন্ট্রোল রুম রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির কারণে ভবনটি ফাঁকা থাকায় মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন মেহেদী হাসান (২৫)। পরে তিনি সরাসরি চারতলায় উঠে সার্ভার ও কন্ট্রোল রুমে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এতে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি টের পেয়ে পথচারীরা পুলিশে খবর দিলে তানোর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার সময় তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং নিজেকে রক্ষার জন্য পাগলের ভান করেন। এ সময় তিনি ছাদ থেকে একটি এসি ফেলে দেন এবং ইট ছুড়ে জনতার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ভাঙচুরের আগে সার্ভার কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযুক্তের কাছে হাতুড়ি, বড় হাঁসুয়া ও প্লাসসহ দেশীয় সরঞ্জাম ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ ভবনের ভেতর থেকে ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে তারা জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।

এদিকে, ঘটনার পেছনে পূর্ববিরোধের বিষয়ও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যুবলীগ নেতা লুৎফর হায়দার রশিদ বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মিজানুর রহমান সেই ব্যবসার দখল পুনরুদ্ধার করেন। এর জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রিশিয়ান জাকির হোসেন জানান, সার্ভার রুমের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা হয়েছে, ফলে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ম্যানেজার মাসুমের দাবি, এটি পরিকল্পিত নাশকতা, কারণ হামলাকারী সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ জানান, আটক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা যায়নি। তবে তিনি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৩:১৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
৫০৬ বার পড়া হয়েছে

তানোরে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে সন্ত্রাসীরা

আপডেট সময় ০৩:১৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
18

রাজশাহীর তানোরে সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকেই এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে উপজেলার তানোর বাজারের কুঠিপাড়া রোডে অবস্থিত বরেন্দ্র ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ভবনের চতুর্থ তলায় মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন বরেন্দ্র কেব্‌ল টিভি নেটওয়ার্কের সার্ভার ও কন্ট্রোল রুম রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটির কারণে ভবনটি ফাঁকা থাকায় মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন মেহেদী হাসান (২৫)। পরে তিনি সরাসরি চারতলায় উঠে সার্ভার ও কন্ট্রোল রুমে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এতে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি টের পেয়ে পথচারীরা পুলিশে খবর দিলে তানোর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার সময় তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করেন এবং নিজেকে রক্ষার জন্য পাগলের ভান করেন। এ সময় তিনি ছাদ থেকে একটি এসি ফেলে দেন এবং ইট ছুড়ে জনতার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ভাঙচুরের আগে সার্ভার কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযুক্তের কাছে হাতুড়ি, বড় হাঁসুয়া ও প্লাসসহ দেশীয় সরঞ্জাম ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ ভবনের ভেতর থেকে ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে তারা জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।

এদিকে, ঘটনার পেছনে পূর্ববিরোধের বিষয়ও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যুবলীগ নেতা লুৎফর হায়দার রশিদ বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মিজানুর রহমান সেই ব্যবসার দখল পুনরুদ্ধার করেন। এর জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রিশিয়ান জাকির হোসেন জানান, সার্ভার রুমের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা হয়েছে, ফলে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ম্যানেজার মাসুমের দাবি, এটি পরিকল্পিত নাশকতা, কারণ হামলাকারী সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তানোর থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজ জানান, আটক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা যায়নি। তবে তিনি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।