শিশু ওয়ার্ডে শয্যার তিনগুণ রোগী ভর্তি
জামালপুরে শীতজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে

ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে জামালপুর জেলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, ঠান্ডা-জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শত শত মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন।
শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলায় শতবর্ষী বৃদ্ধা মরিয়ম বেওয়ার মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
চিকিৎসকরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। শীত আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ৬২৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ঠান্ডা-জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রয়েছে ১২৭ জন। মাত্র ২৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ৮৩ জন এবং ৩২ শয্যার শিশু আইসিইউতে ৪৪ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। ফলে প্রতি শয্যায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, জায়গার অভাবে অনেক রোগী বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে চরম চাপের মুখে পড়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
শিশু রোগীর স্বজনরা জানান, শীত বাড়ার পর থেকেই শিশুদের অসুস্থতা বেড়েছে। অনেকেই প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিলেও অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছেন।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন,
“প্রতিবছর শীতকালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এ বছর শিশু রোগীর চাপ বেশি। আমরা চিকিৎসক ও জায়গা—দুই সংকটেই ভুগছি।”
এদিকে শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষিতেও। কুয়াশার কারণে রোদ না পাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজি ক্ষেতে রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শীত মোকাবিলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জামালপুর সদর উপজেলার ইউএনও নাজনীন আখতার জানান, কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, জেলায় সাড়ে সাত হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।






















