আল-জাজিরার পর্যালোচনায় উঠে এসেছে
জামায়াত কি সরকারে আসছে? আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা প্রকাশিত এক বিস্তৃত পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের দমন-পীড়নের পর জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন এবং আসন্ন নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা।
ফরিদপুরের ব্যাংকার আবদুর রাজ্জাকের মতো অনেক সমর্থকই বিশ্বাস করছেন, জামায়াত এবার কেবল বিরোধী শক্তি নয়—বরং সরকার গঠনের দৌড়ে অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমে তিনি দাবি করেন, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতকে ঘিরে বিরল ঐক্য দেখা যাচ্ছে।
২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় রাজনৈতিক ময়দানে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতায় বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ জামায়াতের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং একাধিক দেশীয় গবেষণা সংস্থার জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের জনপ্রিয়তার ব্যবধান এখন খুবই সামান্য। কোনো কোনো জরিপে জামায়াত কার্যত বিএনপির সমান অবস্থানে পৌঁছেছে।
আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, এই সম্ভাব্য জয় জামায়াতের জন্য হবে এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। এক সময় যুদ্ধাপরাধের বিচার, দলীয় নিষেধাজ্ঞা, শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি ও কারাবরণের মাধ্যমে দলটি প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। তবে ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামায়াত দ্রুত নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে।
জামায়াত নেতৃত্ব দাবি করছে, তাদের উত্থান কেবল সহানুভূতির ফল নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনে হতাশ জনগণ একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছে। দলটি নিজেকে ‘মধ্যপন্থি ইসলামি শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরছে এবং সংবিধানের আওতায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
তবে এই উত্থান ঘিরে উদ্বেগও রয়েছে। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় কড়াকড়ি বাড়তে পারে। যদিও দলটি এসব অভিযোগ নাকচ করে নারী অধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—এমনকি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার নজিরও তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ইসলাম বনাম ধর্মনিরপেক্ষতার চেয়ে বেশি সংস্কার বনাম স্থিতাবস্থার লড়াই হয়ে উঠতে পারে। যে জোট জনগণের আস্থা অর্জন করে বাস্তবসম্মত সংস্কার এজেন্ডা দিতে পারবে, তারাই সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।























