ঢাকা ০১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মালচিং প্রযুক্তি

জাকিরুল ইসলাম বাবু, জামালপুর::

ছবি: চেকপোস্ট

জলবায়ু সহিষ্ণু মালচিং প্রযুক্তি বর্তমানে সবজি চাষে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মালচিং পেপার শুধু জমির আদ্রতা ধরে রাখে না, একই সঙ্গে ফসলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। এর পাশাপাশি সেচের খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষকরা আগাছা ও বালাই নাশকের ব্যবহারও কমাতে সক্ষম হচ্ছেন। কম খরচে অধিক উৎপাদন পাওয়ায় জামালপুরের কৃষকরা এই আধুনিক পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সবজি চাষে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পোকামাকড় ও আগাছা। এছাড়া, সবজি উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। এই দুই সমস্যার সমাধান করতে মালচিং পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে জামালপুরে ২৪ হেক্টর জমিতে মরিচ, টমেটো, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে এই পদ্ধতিতে, যেখানে দেড় শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করছেন।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের কৃষক নূর সালাম মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো টমেটো চাষ করেছেন। মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করে তিনি বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আগে সাধারণভাবে চাষাবাদ করতাম, কিন্তু গত দুই বছর ধরে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এখন অনেক কৃষক আমার দেখাদেখি এই পদ্ধতিতে চাষ করছে এবং পরামর্শ নিতে আসে।”

এছাড়া, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে জমির আদ্রতা রক্ষা হয়, আগাছা দমন খরচ কমে, সার ও পানি কম লাগে। এই কারণে আশেপাশের কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এবং আরও বেশি কৃষক এই পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

এদিকে, এই প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কো-অপারেশন প্রোগ্রামের অর্থায়নে বিশ্বভিশন ও উন্নয়ন সংঘের বাস্তবায়নে “জেসমিন প্রকল্প।” প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের পরিবেশবান্ধব বালাইনাশক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং কৃষি উপকরণ বাজারজাতকারী বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন জেসমিন প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্টিফেন অসীম চ্যাটার্জী বলেন, “আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সঙ্গে কাজ করছি এবং জামালপুর জেলার ৪টি উপজেলায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। ২৫ হাজার কৃষককে পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।” এরইমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।

জামালপুর জেলার পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “দেশে বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে, আর কৃষি খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কৃষকরা চায় সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বেশি ফসল উৎপাদন করতে। আর মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় এই প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।”

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেন, “মালচিং পদ্ধতি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে মাটির ওপরে জৈব বা অজৈব উপকরণ দিয়ে একটি স্তর তৈরি করা হয়। এতে জমির আদ্রতা অনেকাংশে সংরক্ষিত থাকে এবং গাছের স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।”

এই প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, এবং জামালপুরের কৃষকরা দ্রুত এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৭:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
৫৩১ বার পড়া হয়েছে

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মালচিং প্রযুক্তি

আপডেট সময় ০৭:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

জলবায়ু সহিষ্ণু মালচিং প্রযুক্তি বর্তমানে সবজি চাষে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মালচিং পেপার শুধু জমির আদ্রতা ধরে রাখে না, একই সঙ্গে ফসলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। এর পাশাপাশি সেচের খরচ কমানোর মাধ্যমে কৃষকরা আগাছা ও বালাই নাশকের ব্যবহারও কমাতে সক্ষম হচ্ছেন। কম খরচে অধিক উৎপাদন পাওয়ায় জামালপুরের কৃষকরা এই আধুনিক পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সবজি চাষে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো পোকামাকড় ও আগাছা। এছাড়া, সবজি উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। এই দুই সমস্যার সমাধান করতে মালচিং পদ্ধতিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে জামালপুরে ২৪ হেক্টর জমিতে মরিচ, টমেটো, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে এই পদ্ধতিতে, যেখানে দেড় শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করছেন।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের কৃষক নূর সালাম মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমবারের মতো টমেটো চাষ করেছেন। মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করে তিনি বেশ ভালো ফলন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আগে সাধারণভাবে চাষাবাদ করতাম, কিন্তু গত দুই বছর ধরে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। এখন অনেক কৃষক আমার দেখাদেখি এই পদ্ধতিতে চাষ করছে এবং পরামর্শ নিতে আসে।”

এছাড়া, মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে জমির আদ্রতা রক্ষা হয়, আগাছা দমন খরচ কমে, সার ও পানি কম লাগে। এই কারণে আশেপাশের কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এবং আরও বেশি কৃষক এই পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

এদিকে, এই প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কো-অপারেশন প্রোগ্রামের অর্থায়নে বিশ্বভিশন ও উন্নয়ন সংঘের বাস্তবায়নে “জেসমিন প্রকল্প।” প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের পরিবেশবান্ধব বালাইনাশক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং কৃষি উপকরণ বাজারজাতকারী বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন জেসমিন প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্টিফেন অসীম চ্যাটার্জী বলেন, “আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সঙ্গে কাজ করছি এবং জামালপুর জেলার ৪টি উপজেলায় এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। ২৫ হাজার কৃষককে পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।” এরইমধ্যে কৃষকদের মধ্যে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।

জামালপুর জেলার পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, “দেশে বর্তমানে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে, আর কৃষি খাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কৃষকরা চায় সঠিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে বেশি ফসল উৎপাদন করতে। আর মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় এই প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।”

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাকিয়া সুলতানা বলেন, “মালচিং পদ্ধতি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে মাটির ওপরে জৈব বা অজৈব উপকরণ দিয়ে একটি স্তর তৈরি করা হয়। এতে জমির আদ্রতা অনেকাংশে সংরক্ষিত থাকে এবং গাছের স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।”

এই প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, এবং জামালপুরের কৃষকরা দ্রুত এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/checkpostcom/public_html/wp-includes/functions.php on line 5464