বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের পর ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত, পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি
চুনারুঘাটে কাজের প্রলোভন ও বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গর্ভপাতের অভিযোগ

চুনারুঘাট উপজেলায় কাজের সুযোগ দেখিয়ে বিয়ের আশ্বাসে এক কিশোরীর ওপর ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে শামীম মিয়া নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শামীম উপজেলার নরপতি এলাকার চুরতা গ্রামের সিদ্দিক আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগী কিশোরী মনি (১৬) একই গ্রামের ভিক্ষুক আব্দুল হেকিমের মেয়ে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শামীম ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিক্ষুক আব্দুল হেকিম স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করেন। তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন, বড় মেয়ে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং ছোট মেয়ে মনি মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী গত বছরের জুন মাসে পাশের বাড়ির বাসিন্দা শামীম মিয়া কাজের কথা বলে মনিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নিজের কক্ষে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন শামীম।
পরবর্তীতে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়লে শামীম ঢাকায় চলে যান। সময়ের সঙ্গে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন স্পষ্ট হলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের চাপে একপর্যায়ে সে ঘটনার কথা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়। পরে কিশোরীর মা শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ঢাকা থেকে ফিরে মনিকে বিয়ে করবেন এবং স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলবেন। একই সঙ্গে চিকিৎসার কথা বলে ওষুধ পাঠানোর আশ্বাস দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কয়েকদিন পর শামীমের চাচা জবেদ আলী কয়েকটি ট্যাবলেট নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং ‘স্বাস্থ্য ভালো হবে’ বলে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ওই ওষুধ খাওয়ান। এর দুদিন পর কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ ডিসেম্বর একটি মৃত পুত্রসন্তান প্রসব করে।
খবর পেয়ে শামীম পুনরায় তার চাচা জবেদ আলীকে পাঠিয়ে মৃত শিশুটিকে একটি ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরপর ঘটনাটি গোপন রাখতে পরিবারকে আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে শামীম সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরে ভুক্তভোগীর বাবা ভিক্ষুক রহিম মিয়া বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালেও কোনো সুরাহা পাননি।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের একটি ঘটনার কথা শুনেছি। আমি নিজে ভুক্তভোগীর পরিবারকে থানায় আসার জন্য ফোন করেছি। তবে তারা এখনো আসেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

























