গাজীপুরে ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে জখম, ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানাধীন খিলগাঁও এলাকায় হাবিবুর রহমান (৩০) নামের এক ইজিবাইক চালককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রিয়াজ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে কালীগঞ্জ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমানের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন- পূবাইলের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী হাসান রিয়াজ এবং একই এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে শাওন মিয়া। এছাড়াও আরও ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন কালীগঞ্জ রোডে ইজিবাইক থামানোকে কেন্দ্র করে চালক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেহেদী, শাওন ও তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন মিলে হাবিবুরের চোখ বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালায়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই ৪১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাউসার ফেসবুক লাইভে এসে ভুক্তভোগী ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে বিচার দাবি করেন।
পরে হাবিবুর রহমান নিজেই বাদী হয়ে পূবাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রিয়াজসহ ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, “আমি শুধু তাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছি, মারধর করিনি। সে কীভাবে আহত হয়েছে, তা আমার জানা নেই।” তবে সাধারণ সম্পাদক কাউসারকে মারধরের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি এখনো আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিচ্ছি। অনুগ্রহ করে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করুন। প্রয়োজনে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।”
পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আমিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”