ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপিতে যোগ দিয়েই মুখপাত্র পদ পাওয়ায় আলোচনা

গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়ন নিয়ে এনসিপিতে যোগ, বিতর্কে আসিফ মাহমুদ

চেকপোস্ট ডেস্ক::
106

গণঅধিকার পরিষদ থেকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ করে পরবর্তীতে দলীয় নিয়ম অনুসরণ না করেই অন্য দলে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নৈতিকতা ও দলীয় শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

গণঅধিকার পরিষদের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আবু হানিফ জানান, আসিফ মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন। তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে যে নির্ধারিত জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তিনি তা প্রদান করেননি। এরপর কোনো ব্যাখ্যা, অব্যাহতি কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তিনি দল ছেড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলীয় নেতা বলেন, এটি কেবল নিয়ম ভঙ্গ নয় বরং রাজনৈতিক প্রতারণার শামিল। তাদের মতে, কোনো দল থেকে মনোনয়ন গ্রহণ করা মানে সেই দলের প্রতি একটি নৈতিক ও সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা তৈরি হওয়া। সেই দায় এড়িয়ে অন্য দলে গিয়ে পদ গ্রহণ করা রাজনৈতিক ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

দলীয় সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদের এই আচরণ গণঅধিকার পরিষদের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মনোনয়নকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দরকষাকষির চেষ্টা করা হয়েছে। বিতর্ক আরও জোরালো হয়, যখন দেখা যায়, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পরপরই তাকে দলটির মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি দল থেকে মনোনয়ন নেওয়ার পর এভাবে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন তার রাজনৈতিক সততা ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চ পরিষদ সদস্য আবু হানিফ বলেন, “রাজনীতি যদি ব্যক্তিগত সুবিধা ও পদ-পদবির খেলায় পরিণত হয়, তাহলে জনগণের আস্থা কোথায় থাকবে? রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করেও তিনি চাইলে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদ সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১১:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
৫৮৫ বার পড়া হয়েছে

এনসিপিতে যোগ দিয়েই মুখপাত্র পদ পাওয়ায় আলোচনা

গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়ন নিয়ে এনসিপিতে যোগ, বিতর্কে আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় ১১:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
106

গণঅধিকার পরিষদ থেকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন গ্রহণ করে পরবর্তীতে দলীয় নিয়ম অনুসরণ না করেই অন্য দলে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নৈতিকতা ও দলীয় শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

গণঅধিকার পরিষদের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আবু হানিফ জানান, আসিফ মাহমুদ আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছিলেন। তবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে যে নির্ধারিত জামানত জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তিনি তা প্রদান করেননি। এরপর কোনো ব্যাখ্যা, অব্যাহতি কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তিনি দল ছেড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দলীয় নেতা বলেন, এটি কেবল নিয়ম ভঙ্গ নয় বরং রাজনৈতিক প্রতারণার শামিল। তাদের মতে, কোনো দল থেকে মনোনয়ন গ্রহণ করা মানে সেই দলের প্রতি একটি নৈতিক ও সাংগঠনিক দায়বদ্ধতা তৈরি হওয়া। সেই দায় এড়িয়ে অন্য দলে গিয়ে পদ গ্রহণ করা রাজনৈতিক ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

দলীয় সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদের এই আচরণ গণঅধিকার পরিষদের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মনোনয়নকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দরকষাকষির চেষ্টা করা হয়েছে। বিতর্ক আরও জোরালো হয়, যখন দেখা যায়, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পরপরই তাকে দলটির মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি দল থেকে মনোনয়ন নেওয়ার পর এভাবে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন তার রাজনৈতিক সততা ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চ পরিষদ সদস্য আবু হানিফ বলেন, “রাজনীতি যদি ব্যক্তিগত সুবিধা ও পদ-পদবির খেলায় পরিণত হয়, তাহলে জনগণের আস্থা কোথায় থাকবে? রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করেও তিনি চাইলে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।”

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদ সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।