খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার, নেপথ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকারকে আটক করেছে পুলিশ। গত ৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১ টায় নগরীর হরিনটানা থানার রাজবাধের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন ৫ এপ্রিল মহিলা দল নেত্রী ফাতেমা- তুজ – জোহরা লিন্ডার দোকান ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ভাংচুরের মতো কর্মকান্ডে তার জড়িত অভিযোগ হাস্যকর। মুলত: গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়টি দখল হওয়ার পর পবিত্র সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত পবিত্রের পক্ষে রায় দিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এদিকে যে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, তার বাদি পবিত্র সরকারকে চিনেন না বলে জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি।
শুরুতে এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কেসিসির সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর খালেক আত্মগোপনে চলে যান। তখন সবার মতামতের ভিত্তিতে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন বিএনপি সমর্থিত ট্রাস্টি সিরাজুল হক চৌধুরী। সুত্রটি জানায়, ২০২৫ সালের ২১মে সিরাজুল হক চৌধুরীকে সরিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন মিজানুর রহমান নামের ব্যাক্তি। হাফিজুর রহমানকে করা হয় সদস্য সচিব। তারা দুজনের কেউই বৈধ ট্রাস্টি নন।
মুলত: খুলনা মহানগর বিএনপির এক নেতার প্রশ্রয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দখলে নেন। এরপর পবিত্র কুমার সরকার সহ প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিএনপি সমাবেশে হামলার মামলাও দেওয়া হয়। নানা চাপের মুখেও মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনা সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন পবিত্র কুমার সরকার।
গত ১৩ জানুয়ারি খুলনার সদর সিনিয়র সহকারী জজ মো: রাশিদুল আলম মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দখলদার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান সহ তিনজনকে অবৈধ ঘোষণা এবং এবং ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন আদালত।
এর বিরুদ্ধে আপিল করেন দখলদাররা। আগামী ১৬ এপ্রিল আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। পবিত্র সরকারের স্ত্রী বিউটি মন্ডল বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১১ টায় আমাদের বাড়িতে ঢুকে পবিত্রকে ডিবির লোকেরা তুলে নিয়ে যায়। আমাদের সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছে, মনে হয়েছে কোন খুনের আসামিকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। পরদিন জানতে পারি ভাংচুর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে। তিনি বলেন, অজ্ঞাত নম্বর থেকে আমাদের বলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা তুলে নিলে আর কোন ঝামেলা হবে না। ঔই মামলার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।
২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দায়ের করা যে ভাংচুর মামলায় পবিত্র সরকারকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তার বাদী মহিলা দল নেত্রী ফাতেমা- তুজ – জোহরা লিন্ডা। মামলার এজাহারভুক্ত ৭ আসামির সবাই আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। এরমধ্যে পবিত্র সরকারের নাম নেই। জানতে চাইলে ফাতেমা- তুজ- জোহরা লিন্ডা বলেন, এই নামে আমি কাউকে চিনি না। তাকে কেন এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে ডিবিই বলতে পারবে।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক তৈমুর ইসলাম বলেন, ” তিনি আওয়ামিলীগের সক্রিয় সদস্য। ভাংচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার স্ত্রী বিউটি মন্ডল বলেন,বিয়ের ১৫/১৬ বছরে পবিত্রকে কখোনোও আওয়ামীলীগের কর্মকান্ডে অংশ নিতে দেখিনি। তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ও জড়িত ছিলেন না।





















