তিন যুগেও ঘুচেনি ‘স্বৈরাচার’ তকমা
খুলনা জাপার পিছু ছাড়ছে না অপবাদ

১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দলটির পিছু ছাড়ছে না আপদ–বিপদ ও রাজনৈতিক অপবাদ। ‘স্বৈরাচার’ ও ‘স্বৈরাচারের দোসর’—এই তকমা আজও দলটির গায়ে লেগে আছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় জাপার প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় নতুন করে বিড়ম্বনায় পড়েছে দলটি। এতে বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির আত্মপ্রকাশের পর ওই বছর ৭ মে এবং ১৯৮৮ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খুলনায় দলটির সম্মানজনক অবস্থান ছিল। সে সময় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট মোমিন উদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল (অব.) এইচ এম এ গফফার বীর উত্তম, এস এম বাবর আলী, ডা. মুনসুর আলী, মিয়া মুসা হোসেন, অধ্যাপিকা হাসিনা বানু শিরিন, শেখ আবুল কাশেম (ইঞ্জিনিয়ার) ও এস এম এ রবের নেতৃত্বে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল শক্ত।
তবে সময়ের পরিক্রমায় এসব নেতার সবাই ইহলোক ত্যাগ করেছেন। ১৯৯১ সালের পর খুলনা–৬ আসন ছাড়া জেলার অন্য আসনগুলোতে জাপা আর সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ খুলনার কোনো আসনই জাপার জন্য ছেড়ে দেয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর খুলনা নগরীর ডাকবাংলো মোড়স্থ জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময়ও মামলা না করে দলটি সংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন অব্যাহত রাখে।
তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কারণে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি থেকে জেলা ও নগর শাখা বিরত থাকে।
সব বাধা ও সংকটের মধ্যেই গত মাসে কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়। কোনো শর্ত ছাড়াই খুলনা–১ আসনে কেন্দ্রীয় সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, খুলনা–২ আসনে জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, খুলনা–৩ আসনে নগর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা–৪ আসনে জেলা সহসভাপতি ডা. সৈয়দ আবুল কাশেম, খুলনা–৫ আসনে নগর সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আরা পারভীন ও কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর এবং খুলনা–৬ আসনে প্রার্থী মনোনীত হন।
তবে খুলনা–২ ও খুলনা–৪ আসনের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেননি। খুলনা–২ আসনে জেলা সভাপতি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং খুলনা–৪ আসনের প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন দাখিলে ব্যর্থ হন। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অন্যান্য ত্রুটির কারণে খুলনা–৫ ও ৬ আসনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এসব বিষয়ে প্রার্থীরা জোরালো আপত্তিও তুলতে পারেননি।
এ অবস্থায় বিভিন্ন মহল থেকে জাপার বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচার ও স্বৈরাচারের দোসর’ অপবাদ আরও জোরালো হচ্ছে বলে অভিযোগ দলটির।
এ প্রসঙ্গে খুলনা মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“নির্বাচনে অংশগ্রহণের মতো পরিবেশ নেই। কালো টাকার ছড়াছড়ি সুষ্ঠু নির্বাচনের বড় বাধা। প্রশাসন বড় দলগুলোর প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে। গত তিন যুগে জনসমর্থন বাড়লেও আমাদের গায়ে একটি অপশক্তির দোসর তকমা লাগিয়ে রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন বছরের শুরুতেও নতুন কিছু নেই। পুরনো সেই অভিযোগই প্রতিপক্ষ বারবার গণমাধ্যমে তুলে ধরছে।”



















