খুলনার কৃষক রোকেয়া পারভীনের ভাসমান বীজতলা, জলবায়ু চ্যালেঞ্জে সফল উদ্ভাবন

অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা উপকূলের কৃষকরা এবার ভাসমান বীজতলার মাধ্যমে সমাধান খুঁজেছেন। পাইকগাছা উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের কৃষাণী রোকেয়া পারভীন দেবর আব্দুল কুদ্দুসকে নিয়ে কলাগাছ, বাঁশ ও পুকুরের কাদামাটি ব্যবহার করে ভাসমান ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন।
রোকেয়া পারভীন বলেন, “কয়েক দফা বর্ষায় প্রায় ৭৫ কেজি বীজ ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ভাসমান বীজতলায় বীজ রাখার পর একটি বীজও নষ্ট হয়নি। মাত্র ১৫ দিনে চারা রোপণের উপযোগী হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জমিতেও এমন ধানের চারা পাওয়া যায়নি। আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “প্রথমে সবাই এই পদ্ধতিকে অবাস্তব মনে করত। কিন্তু এখন সবাই আশ্চর্য। এখানে কোনো সার বা কীটনাশকও ব্যবহার হয়নি।”
গ্রামের কৃষক কবির মোড়ল বলেন, “ভেলার বীজতলায় মাত্র ১৪ দিনে ছয়-সাত ইঞ্চি চারা তৈরি হয়েছে। জমিতে আমাদের বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।”
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অটোক্রপের কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “ভাসমান বীজতলা কৃষকদের স্বপ্ন দেখাবে।” এ প্রকল্পে অ্যাওসেডের কমিউনিটি মোবালাইজার শুভঙ্কর বিশ্বাস সরাসরি কাজ করেছেন।
পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ রমেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, “ভাসমান বীজতলা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মোকাবিলায় আশাব্যঞ্জক উদ্ভাবন।”
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর রিফাত জাহান উষা বলেন, “ভাসমান বীজতলা দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে নতুন বিপ্লব সূচনা করবে। টানা বৃষ্টির কারণে মূলত আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে, তবে এই পদ্ধতি কৃষকদের আশা জাগাবে।”


























