খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন সহ বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্য দিয়ে আজ ২৫ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সুর্যদেয়ের সাথে সাথে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সুচনা হয়। সুর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধাসরকারী, সায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠান সমুহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও দ্ধীপ সমুহে জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি পুলিশ কমিশনার জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক, আ,স,ম জামসেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, কেডিএ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসন, খুলনা প্রেসক্লাব, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ,শ্রম দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিএনপি জেলা ও মহানগর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সকাল সাড়ে ৮ টায় জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। পরে একই স্থানে পুলিশ আনসার – ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কাররক্ষী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরন করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন।
পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, জেলা প্রশাসক আ,স,ম জামসেদ খোন্দকার, পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো: রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগন এসময় উপস্থিত ছিলেন। নগর ভবনে সিটি করপোরেশনের আয়োজনে শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগীতা, আলোচবা সভা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
দিবসটির শুরুতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নেতৃত্ব কর্মকর্তা – কর্মচারীবৃন্দ নগরীর গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। কেসিসির প্রশাসক রচনা প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন।
পুরদকার বিতরনকালে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে শহিদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের সুচনা করেছিলেন।বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।স্বাধীনতা সংগ্রামের মুল চেতনা, একটি বৈষম্যহীন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে হবে।
ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জুলাই আন্দোলনকে মুক্তির আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ তিনটি আন্দোলনের গৌরবজ্জল ইতিহাসকে স্মরণ করেই আমাদের ভবিষ্যত বিনির্মান করতে হবে। কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের আয়োজনে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রমান্যচিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সুর্য সন্তান। তাদের আত্মাহুতিতে অর্জিত হয় আজকের এই স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধাদের ছাড়া বাংলার ইতিহাস কখনোও সম্পন হবে না। তিনি আরো বলেন, আপনাদের প্রয়োজনে আমাদের সেবার দরজা সর্বদা খোলা। আপনাদের প্রতি সন্মান, ভালোবাসা আমরা আমাদের কাজে প্রমান রাখতে চাই। রাস্ট্র আপনাদের সন্মান প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জেলা প্রশাসক আ,স,ম জামসেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তোফায়েল আহম্মেদ, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান, জেলা ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবু জাফর ও জুলাই – আগষ্ট গনঅভ্যুত্থানের শহিদ শাকিব রায়হানের মাতা বেগম নুর নাহার।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সিনেমা হল সমুহে ও উম্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুর্নবাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যান কেন্দ্র, শিশু সদন কেন্দ্র, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠান সমুহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ জোহর বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসানালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
সকাল ৯ টা থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে নৌবাহির জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য উম্মুক্ত করা রাখা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবন ও স্থাপনা সমুহে আলোকসজ্জা করা হয়।
জেলা উপজেলা পর্যায়ে স্কুল – কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া (টি- ২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ম্যাচ ও কাবাডি প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। খুলনার সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উম্মুক্ত রাখা হয়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং স্থানীয় সংবাদপত্র গুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দল, সামাজিক – সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসুচির আয়োজন করে।



















