খুলনায় প্রায় ৩ হাজার জেলের জন্য বরাদ্দ ৭৩.৪০ মেট্রিকটন চাল

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ শনিবার (৫ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। এ সময়ে মাছ ধরা, পরিবহন, বিপণন ও মজুদে সরকার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
এই নিষেধাজ্ঞায় খুলনার প্রায় ২ হাজার ৯৩৬ জন নিবন্ধিত জেলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। তাদের সহায়তায় সরকার ৭৩.৪০ মেট্রিকটন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে, যা আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবছর আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে ইলিশ ডিম ছাড়ে। এই সময়টিকে লক্ষ্য করে মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিবছরের মতো এবারও ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে সরকার। খুলনার বিভিন্ন নদ-নদী — যেমন পশুর, শিবসা, ভদ্রা, ঢাকী, চুনকুড়ি, শৈলমারী, ভৈরব, রূপসা, আতাইসহ ২০টির বেশি নদীতে জেলেরা ইলিশ আহরণ করে থাকেন।
জেলেরা জানান, ভরা মৌসুমেও প্রত্যাশিত ইলিশ না পাওয়ায় তারা দেনার দায়ে জর্জরিত। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আরও বিপদে পড়ছেন। তাই বরাদ্দকৃত চাল দ্রুত বিতরণের দাবি জানান তারা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান বলেন, “ডুমুরিয়া বাদে বাকি ৬ উপজেলার নিবন্ধিত ২ হাজার ৯৩৬ জন ইলিশ আহরণকারী জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণে এবার কঠোর অভিযান পরিচালিত হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মাছ ধরা, পরিবহন, বিপণন ও মজুদ নিষিদ্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।”
খুলনা জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা (২০১২-২০১৩) অনুযায়ী বরাদ্দকৃত চাল ১২ অক্টোবরের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বরাদ্দ পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ছাড়পত্র ও বিতরণ সূচি প্রদান করবেন। বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কার্ডধারী জেলে ছাড়া অন্য কাউকে এ ভিজিএফ চাল দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।




















