নির্বাচনে পোস্টার বন্ধ, হতাশ ছাপাখানা মালিকরা
খুলনায় পোস্টার নিষেধাজ্ঞায় প্রেস শিল্পে ধাক্কা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে ইসি। এতে খুলনার ছাপাখানা শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। নগরীর প্রেস মালিক ও কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
খুলনা নগরীর আরাফাত গলির এসআর সিটিপি ডিজিটাল প্রেসের মালিক তপন বলেন,
“আমরা যেমন ঈদের অপেক্ষা করি, তেমনি পাঁচ বছর ধরে জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকি। নির্বাচনের সময় পোস্টার ছাপার কাজই আমাদের বড় আয়ের উৎস। কর্মচারীদের অগ্রিম টাকা দিয়েছি, কাগজ কিনে রেখেছি। কিন্তু আচরণবিধিতে পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
একই এলাকার আজিজ প্রেসের ম্যানেজার ইমরান আলী বলেন, “নির্বাচনের সময় কাজ বাড়ত, কর্মচারীদের ওভারটাইম হতো, তাদের আয়ও বাড়ত। এবার কাজ কম হবে, ফলে আমাদের ব্যবসা ও কর্মচারীদের আয় দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ফাহিম প্রেসের মালিক পারভেজ হোসেন জানান, “২০১৯ সাল থেকে আমরা লোকসানে আছি। কাগজের দাম বাড়ছে, কিন্তু কাজের দাম বাড়ছে না। আশা ছিল নির্বাচনে পোস্টারের কাজ করে কিছুটা ঘুরে দাঁড়াবো। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে এবার ব্যবসায় আরও লোকসান গুনতে হবে।”
প্রেস কর্মচারী সোহান হোসেন বলেন, “নির্বাচনের সময় আমাদের বাড়তি আয় হতো। ওভারটাইম করে সংসারের খরচ চালাতাম। এবার কাজ কম হলে সেই সুযোগ থাকবে না।”
নগরীর বেনু বাবু রোডের কাকন প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের মালিক শেখ নাসির উদ্দিন বলেন,
“করোনার পর থেকেই প্রেস শিল্প টিকে থাকার লড়াই করছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও জাতীয় নির্বাচন আমাদের জন্য আশার জায়গা ছিল। কিন্তু এবার পোস্টার নিষিদ্ধ থাকায় আমরা ভীষণভাবে হতাশ।”
প্রেস মালিক ও কর্মচারীদের মতে, পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিকল্প প্রচার মাধ্যমের সুযোগ বাড়ানো হলে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর জন্য সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ হতো।



















