ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনায় জালানী তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলছেই

মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
2

ইরান, যুক্তরাস্ট্র ও ইসরাইল এর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে দিন দিন খুলনায় জালানী তেলের সংকট তীব্র হচ্ছে।পাম্প গুলোতে মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী তেল। প্রতিটি পাম্পে সবসময় থাকছে মোটরসাইকেলর দীর্ঘ লাইন। তেল সংগ্রহ করতে যেয়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে। এদিকে নানা কৌশলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি ড্রামে বা পটে জালানী তেল সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে এসব পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে ও বাড়িতে। আর বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না চড়া মুল্যে জালানী তেল বিক্রি। শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে খালিশপুরে তিন ভ্যানে ৬ ড্রাম জালানী তেল আটক করে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম। পরে সেই তেলের বৈধ কাগজপত্র না দেখাতে পারায় পুলিশের কাছে ৬ ড্রাম তেল হস্তান্তর করা হয়। তার পরেও ড্রামে খালিশপুর দিয়ে জালানী তেল যাওয়া বন্ধ হয়নি। নগরীর লবনচরা এলাকায় মাই ম্যাক্সসিস নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক রেশমা বেগম এক লিটার অকটেন ২১০ টাকা দরে বিক্রি করছিল।

গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় মেসার্স শিকদার ফিলিং স্টেশন এ্যান্ড সিনজি পাম্পে মেসার্স গালিব অয়েলের স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুল জব্বার জোহরা খাতুন শিশু বিদ্যা নিকেতন বিদ্যালয়ের নাম করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাম্প থেকে জালানী তেল ক্রয় করতে আসেন। এনএসআই খুলনা মেট্রো কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শেয়েব শাত -ঈল ইভান ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এর আগে শুক্রবার খুলনার দৌলতপুর পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড দৌলতপুর ডিপো মনিটরিং ও পরিদর্শন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এসময় ট্যাংকে সংরক্ষিত জালানী তেলের পরিমাপ শেষে একটি তৈলাধারের পেট্রোলের তাত্ত্বিক পরিমাপের সাথে বাস্তব পরিমাপের তুলনায় ১৭২ লিটার তেলের তারতম্য মেলে।

শুক্রবার এনএসআই – এর তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এর আগে ফুলতলা থেকে ১২৩৫ লিটার জালানী তেল জব্দ করা হয়েছে। ৩০ মার্চ দৌলতপুর খুলনা ফিলিং স্টেশনে জালানী তেল নিতে আসা দু’ গ্রাহকের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই মোটরসাইকেল মালিকের সাথে হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২ টার সময় ডুমুরিয়ার আঠারো মাইল সেঞ্চুরি ফিলিং স্টেশনে পটে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারন করায় মারপিট ও হামলার শিকার হয় সাবেক শিবির সভাপতি মোঃ মহিদুজ্জামান। মাগুরঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম তাকে মারপিট করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এনিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সন্মেলন হয়েছে। ৩ এপ্রিল সাবেক শিবির সভাপতি মহিদ ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করেছে। আর ৪ এপ্রিল তার প্রতিবাদে মাগুরঘোনা ইউনিয়ন বিএনপি পাল্টা সংবাদ সন্মেলন করেছে একই ক্লাবে। সাজিয়াড়ায় দেদারছে দুইশ থেকে আড়াইশো টাকায় অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ লতিফ ফিলিং এ ২ হাজার লিটার জালানী তেল নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসন আটক করে। পরে আবার পাম্পের হাউজে তা ঢেলে দেওয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভুমি) অমিত কুমার বিশ্বাস সাজিয়াড়া মোড়ে মনিরুল ইসলাম নামে এক মুদি দোকানে অভিযান চালান। ঔই দোকানে তখন ৬০০ লিটার জালানী তেল মজুদ ছিল। তবে অজ্ঞাত কারনে তিনি সেটি জব্দ না করে চলে আসেন। এসব ঘটনার পরেও অধিকাংশ পাম্পে ড্রামে এবং পটে তেল দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। আর অধিকাংশ বাজারের মুদি দোকানে খুচরা বিক্রেতারা চড়া দামে জালানী তেল বিক্রি করছে। গত শনিবার সকালে গল্লামারী মেট্রো ফিলিং স্টেশন, শিকদার ফিলিং স্টেশন ও ডুমুরিয়ার এ লতিফ ফিলিং এ যেয়ে, প্রত্যেকটা পাম্পের সামনে লম্বা মোটরসাইকেলের লাইন। সকাল ১০ যেয়ে দেখা যায় শিকদারে তেল দেওয়া হচ্ছে। ডুমুরিয়ায় দুপুর ১ টা থেকে তেল দেওয়ার ঘোষণা দিলেও সকালেই মোটরসাইকেলর লম্বা লাইন কাঁচা বাজার ছাড়িয়ে যায়।

তেল নিতে আসা ধান ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে ৪/৫ ঘন্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল মেলে। তাছাড়া ব্যাপক স্বজন প্রীতিও হয় পাম্পে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে পাম্প মালিক লতিফ জমাদ্দার বলেন, ডিপো থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটা সঠিকভাবে সকলকে দেওয়া হয়। খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বলেন, আমাদের ভ্রাম্যমাণ টিম সর্বদা মাঠে রয়েছে।

ওজনে কম এবং দাম বেশি নিলে এবং তা প্রমান হলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, রবিবার জালানী মন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং হয়েছে আরোও কিছু নির্দেশনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে জনভোগান্তি লাঘবে চেষ্টা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৬:১৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
৫০১ বার পড়া হয়েছে

খুলনায় জালানী তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলছেই

আপডেট সময় ০৬:১৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
2

ইরান, যুক্তরাস্ট্র ও ইসরাইল এর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে দিন দিন খুলনায় জালানী তেলের সংকট তীব্র হচ্ছে।পাম্প গুলোতে মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী তেল। প্রতিটি পাম্পে সবসময় থাকছে মোটরসাইকেলর দীর্ঘ লাইন। তেল সংগ্রহ করতে যেয়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে। এদিকে নানা কৌশলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি ড্রামে বা পটে জালানী তেল সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে এসব পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন দোকানে ও বাড়িতে। আর বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না চড়া মুল্যে জালানী তেল বিক্রি। শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে খালিশপুরে তিন ভ্যানে ৬ ড্রাম জালানী তেল আটক করে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম। পরে সেই তেলের বৈধ কাগজপত্র না দেখাতে পারায় পুলিশের কাছে ৬ ড্রাম তেল হস্তান্তর করা হয়। তার পরেও ড্রামে খালিশপুর দিয়ে জালানী তেল যাওয়া বন্ধ হয়নি। নগরীর লবনচরা এলাকায় মাই ম্যাক্সসিস নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক রেশমা বেগম এক লিটার অকটেন ২১০ টাকা দরে বিক্রি করছিল।

গতকাল শনিবার দুপুরে নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় মেসার্স শিকদার ফিলিং স্টেশন এ্যান্ড সিনজি পাম্পে মেসার্স গালিব অয়েলের স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুল জব্বার জোহরা খাতুন শিশু বিদ্যা নিকেতন বিদ্যালয়ের নাম করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাম্প থেকে জালানী তেল ক্রয় করতে আসেন। এনএসআই খুলনা মেট্রো কার্যালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শেয়েব শাত -ঈল ইভান ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এর আগে শুক্রবার খুলনার দৌলতপুর পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড দৌলতপুর ডিপো মনিটরিং ও পরিদর্শন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। এসময় ট্যাংকে সংরক্ষিত জালানী তেলের পরিমাপ শেষে একটি তৈলাধারের পেট্রোলের তাত্ত্বিক পরিমাপের সাথে বাস্তব পরিমাপের তুলনায় ১৭২ লিটার তেলের তারতম্য মেলে।

শুক্রবার এনএসআই – এর তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এর আগে ফুলতলা থেকে ১২৩৫ লিটার জালানী তেল জব্দ করা হয়েছে। ৩০ মার্চ দৌলতপুর খুলনা ফিলিং স্টেশনে জালানী তেল নিতে আসা দু’ গ্রাহকের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই মোটরসাইকেল মালিকের সাথে হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২ টার সময় ডুমুরিয়ার আঠারো মাইল সেঞ্চুরি ফিলিং স্টেশনে পটে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারন করায় মারপিট ও হামলার শিকার হয় সাবেক শিবির সভাপতি মোঃ মহিদুজ্জামান। মাগুরঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম তাকে মারপিট করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এনিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সন্মেলন হয়েছে। ৩ এপ্রিল সাবেক শিবির সভাপতি মহিদ ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সন্মেলন করেছে। আর ৪ এপ্রিল তার প্রতিবাদে মাগুরঘোনা ইউনিয়ন বিএনপি পাল্টা সংবাদ সন্মেলন করেছে একই ক্লাবে। সাজিয়াড়ায় দেদারছে দুইশ থেকে আড়াইশো টাকায় অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ লতিফ ফিলিং এ ২ হাজার লিটার জালানী তেল নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসন আটক করে। পরে আবার পাম্পের হাউজে তা ঢেলে দেওয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভুমি) অমিত কুমার বিশ্বাস সাজিয়াড়া মোড়ে মনিরুল ইসলাম নামে এক মুদি দোকানে অভিযান চালান। ঔই দোকানে তখন ৬০০ লিটার জালানী তেল মজুদ ছিল। তবে অজ্ঞাত কারনে তিনি সেটি জব্দ না করে চলে আসেন। এসব ঘটনার পরেও অধিকাংশ পাম্পে ড্রামে এবং পটে তেল দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। আর অধিকাংশ বাজারের মুদি দোকানে খুচরা বিক্রেতারা চড়া দামে জালানী তেল বিক্রি করছে। গত শনিবার সকালে গল্লামারী মেট্রো ফিলিং স্টেশন, শিকদার ফিলিং স্টেশন ও ডুমুরিয়ার এ লতিফ ফিলিং এ যেয়ে, প্রত্যেকটা পাম্পের সামনে লম্বা মোটরসাইকেলের লাইন। সকাল ১০ যেয়ে দেখা যায় শিকদারে তেল দেওয়া হচ্ছে। ডুমুরিয়ায় দুপুর ১ টা থেকে তেল দেওয়ার ঘোষণা দিলেও সকালেই মোটরসাইকেলর লম্বা লাইন কাঁচা বাজার ছাড়িয়ে যায়।

তেল নিতে আসা ধান ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন জানান, মোটরসাইকেল নিয়ে ৪/৫ ঘন্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার তেল মেলে। তাছাড়া ব্যাপক স্বজন প্রীতিও হয় পাম্পে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে পাম্প মালিক লতিফ জমাদ্দার বলেন, ডিপো থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় সেটা সঠিকভাবে সকলকে দেওয়া হয়। খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বলেন, আমাদের ভ্রাম্যমাণ টিম সর্বদা মাঠে রয়েছে।

ওজনে কম এবং দাম বেশি নিলে এবং তা প্রমান হলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, রবিবার জালানী মন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং হয়েছে আরোও কিছু নির্দেশনা আসতে পারে। সব মিলিয়ে জনভোগান্তি লাঘবে চেষ্টা করা হচ্ছে।