ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খুলনায় জালানী তেলের মুল্য বৃদ্ধির গুজবে নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড়

রবিউল হোসেন খান, খুলনা::
39

মধ্যপ্রাচ্যে চলামান যুদ্ধের কারনে বৈশ্বিকভাবে জালানী তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশে জালানী তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার সহ জালানী তেলে ব্যবহ্নত যানবাহনের ভীড় দেখা দিয়েছে পেট্রোল পাম্প গুলোতে।

অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ও আজ সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যেয়ে এর সত্যতা মেলে। এ কারনে পেট্রোল পাম্প গুলো স্বাভাবিক বিক্রির তুলনায় গতকাল এবং আজ হঠাৎ বিক্রি বেড়ে যায়।

এদিকে সংকট নিরসনে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেধে দিয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন( বিপিএল)। নগরীর ফুলবাড়িগেট নগর পেট্রোলিয়াম সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ মাহফুজ বিশ্বাস বলেন, ” প্রতিদিন আমাদের স্টেশন থেকে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার লিটারের অধিক তেল বিক্রি হয়। কিন্তু গুজবের কারনে গতকাল জুমার নামাজের পর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যায়। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল নিতে আসছে। কেউ, কেউ অতিরিক্ত তেল নেওয়ার জন পাত্র নিয়ে আসছেন। তবে বিপিসির নির্দেশনা মেনে পাত্রে কোন তেল বিক্রি কিংবা নির্ধারন করে দেওয়ার বেশি তেল বিক্রি করছি না। পাম্পে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছি প্লাস্টিক, কাচের বোতল, কন্টেইনার, জার ক্যানে বিক্রি ও সরবরাহ সম্পুর্ন নিষিদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডিপো গুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ পেয়েছি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি দামেও কোন পরিবর্তন হয়নি। পুর্বের দাম অনুযায়ী পেট্রোল লিটার প্রতি ১১৬ টাকা, ডিজেল ১০০ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার বিক্রি করছি।

খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে মেসার্স এলেনা ফিলিং স্টেশনে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ( বিপিসি) গতকাল শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে যানবাহনের জন্য তেল সরবরাহ নির্ধারনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়৷ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় দেশের জনগনের ভয় আতংক হ্নাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, দেশে জালানী তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম / সুচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সামগ্রীকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারাদেশের সকল ডিপোতে নিয়মিত রেলওয়াগন/ ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের জালানী তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে। খুলনা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল ডিপোতে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ডিপো গুলোতে তেল পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এখান থেকে রেলওয়াগন ও ট্যাংকারে করে দেশের দক্ষিন ও উত্তারঞ্চলের জালানী তেল সরবরাহ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যমুনা তেল ডিপোর এক কর্মকর্তা জানান, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে জালানী তেলের চুক্তি সিঙ্গাপুরের সঙ্গে করে। যার কারনে দেশে জালানী তেলে পর্যাপ্ত মজুদ এবং পাইপ লাইনের তেল দেশে সঠিক সময়ে ঢুকলে আগামী তিনমাসেও জালানী তেলের কোন ঘাটতি পড়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরো বলেন, সংকট নিরসনে জালানী তেলের অগ্রিম চালান খোলা হয়েছে।

এছাড়া গতকাল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ( বিপিসি) ডিপো থেকে চালান অনুযায়ী অর্ধেক জালানি তেল নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৫:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
৫১৩ বার পড়া হয়েছে

খুলনায় জালানী তেলের মুল্য বৃদ্ধির গুজবে নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড়

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
39

মধ্যপ্রাচ্যে চলামান যুদ্ধের কারনে বৈশ্বিকভাবে জালানী তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশে জালানী তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার সহ জালানী তেলে ব্যবহ্নত যানবাহনের ভীড় দেখা দিয়েছে পেট্রোল পাম্প গুলোতে।

অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ও আজ সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যেয়ে এর সত্যতা মেলে। এ কারনে পেট্রোল পাম্প গুলো স্বাভাবিক বিক্রির তুলনায় গতকাল এবং আজ হঠাৎ বিক্রি বেড়ে যায়।

এদিকে সংকট নিরসনে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেধে দিয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন( বিপিএল)। নগরীর ফুলবাড়িগেট নগর পেট্রোলিয়াম সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার মোঃ মাহফুজ বিশ্বাস বলেন, ” প্রতিদিন আমাদের স্টেশন থেকে পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার লিটারের অধিক তেল বিক্রি হয়। কিন্তু গুজবের কারনে গতকাল জুমার নামাজের পর থেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যায়। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল নিতে আসছে। কেউ, কেউ অতিরিক্ত তেল নেওয়ার জন পাত্র নিয়ে আসছেন। তবে বিপিসির নির্দেশনা মেনে পাত্রে কোন তেল বিক্রি কিংবা নির্ধারন করে দেওয়ার বেশি তেল বিক্রি করছি না। পাম্পে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছি প্লাস্টিক, কাচের বোতল, কন্টেইনার, জার ক্যানে বিক্রি ও সরবরাহ সম্পুর্ন নিষিদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডিপো গুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ পেয়েছি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি দামেও কোন পরিবর্তন হয়নি। পুর্বের দাম অনুযায়ী পেট্রোল লিটার প্রতি ১১৬ টাকা, ডিজেল ১০০ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা লিটার বিক্রি করছি।

খালিশপুর নতুন রাস্তা মোড়ে মেসার্স এলেনা ফিলিং স্টেশনে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ( বিপিসি) গতকাল শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে যানবাহনের জন্য তেল সরবরাহ নির্ধারনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়৷ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় দেশের জনগনের ভয় আতংক হ্নাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, দেশে জালানী তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম / সুচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সামগ্রীকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারাদেশের সকল ডিপোতে নিয়মিত রেলওয়াগন/ ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের জালানী তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে। খুলনা পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল ডিপোতে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ডিপো গুলোতে তেল পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এখান থেকে রেলওয়াগন ও ট্যাংকারে করে দেশের দক্ষিন ও উত্তারঞ্চলের জালানী তেল সরবরাহ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যমুনা তেল ডিপোর এক কর্মকর্তা জানান, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে জালানী তেলের চুক্তি সিঙ্গাপুরের সঙ্গে করে। যার কারনে দেশে জালানী তেলে পর্যাপ্ত মজুদ এবং পাইপ লাইনের তেল দেশে সঠিক সময়ে ঢুকলে আগামী তিনমাসেও জালানী তেলের কোন ঘাটতি পড়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরো বলেন, সংকট নিরসনে জালানী তেলের অগ্রিম চালান খোলা হয়েছে।

এছাড়া গতকাল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ( বিপিসি) ডিপো থেকে চালান অনুযায়ী অর্ধেক জালানি তেল নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।