খুলনায় আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ দুইজন আটক
খুলনা নগরীতে দুইটি পিস্তল, একটি শর্টগান ও ১৫ রাউন্ড গুলিসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ভোররাতে নগরীর রায়ের মহল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজনের নাম ফারুক হোসেন, যিনি অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনার সাথে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিনটানা থানার ওসি খায়রুল বাশার জানান, বুধবার (৩ এপ্রিল) রাতে বাঙ্গালবাড়ী এলাকায় দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এ সময় খায়রুল সরদার (২৭) নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়।
পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে খায়রুল সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, অস্ত্র পরীক্ষা করার সময় অসতর্কভাবে তার হাতে থাকা পিস্তল থেকে গুলি ছুটে গিয়ে তার বাম হাতের তালুতে লাগে। সে সন্ত্রাসী ফারুক হোসেনের গ্রুপের সদস্য বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।
এরপর পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বয়ে বাঙ্গালবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে খায়রুল অস্ত্র ব্যবসায়ী ফারুক হোসেনের বাড়ি শনাক্ত করে।
পুলিশ ফারুক হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার রান্নাঘরের জ্বালানির স্তূপ, ঘরের টিনের বাক্স ও দেয়ালের ভেতর থেকে নিম্নলিখিত অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়-২টি বিদেশি পিস্তল, ১টি শর্টগান (বাংলাদেশ পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে), ৮ রাউন্ড পিস্তলের তাজা গুলি ও ১ রাউন্ড খালি কার্তুজ, ৭ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, ১টি বড় রামদা, অস্ত্র কেনাবেচায় ব্যবহৃত একটি রানার মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হোসেন বিভিন্ন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতিকারীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ তার অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে জানতে পারে, খায়রুল সরদারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলিগুলোর উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা জানার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।