ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ৭০% ট্রলার বন্ধ: তেল সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় বিপাকে ৫ হাজার জেলে পরিবার

কক্সবাজার প্রতিনিধি::
8

কক্সবাজার দেশের প্রধান মৎস্য আহরণ কেন্দ্র কক্সবাজারে বর্তমানে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। একদিকে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্য ও তীব্র সংকট, অন্যদিকে সাগরে দস্যুতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে জেলার প্রায় ৫,২৫০টি নিবন্ধিত ট্রলারের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ সাগরে যেতে পারছে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৩,৬৭৫টি ট্রলার ঘাটে অলস বসে আছে। এর ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার জেলে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও মাছের বাজারে।

​সরেজমিনে কক্সবাজারের ফিশারি ঘাট, বাঁকখালী নদীর মোহনা এবং টেকনাফের ঘাটগুলোতে দেখা গেছে শত শত ট্রলার সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। সাধারণত এই সময়ে সাগরে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রাচুর্য থাকে, কিন্তু তেলের চড়া দামের কারণে ট্রলার মালিকরা সাগরে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। জেলেরা বলছেন, একবার সাগরে গিয়ে মাছ না পাওয়া গেলে কয়েক লক্ষ টাকার লোকসান গুনতে হয়।
​ ট্রলার মালিক সমিতি: “ব্যবসায় টিকে থাকাই দায়” কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন: ​”একটি বড় ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ এবং রসদ বাবদ ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। ডিজেলের দাম বাড়ার পর এই খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া সাগরে জলদস্যুদের উৎপাত বেড়েছে। এত ঝুঁকি নিয়ে সাগরে গিয়ে মাছ না পেলে আমাদের পথে বসতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে ৭০ শতাংশ মালিক ট্রলার বন্ধ রেখেছেন।”

​প্রান্তিক জেলেদের হাহাকার: “সংসার চলছে না” শহরের সমিতি পাড়ার জেলে রহিম উল্লাহ (৪৫) আক্ষেপ করে বলেন: ​”সারা জীবন সাগরে মাছ ধরেই পেট চালিয়েছি। এখন ট্রলার মালিকরা তেল কিনতে পারছেন না বলে আমাদের কাজে নিচ্ছেন না। গত ২০ দিন ধরে ঘরে বসে আছি। পরিবার নিয়ে তিন বেলা খাওয়া এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

​ মৎস্য আড়তদার ও ব্যবসায়ী: “মাছের সরবরাহ কম, দাম চড়া” ফিশারি ঘাটের একজন পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী জানান: ​”ট্রলার কম আসায় বাজারে মাছের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যেটুকু মাছ আসছে তার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে কক্সবাজারের মৎস্য খাত বড় ধরনের ধসের মুখে পড়বে।”

​​বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট নিরসনে সরকারকে অবিলম্বে জেলেদের জন্য জ্বালানি ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করে দস্যুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, দেশের প্রোটিনের বড় উৎস এই মৎস্য শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ০৫:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
৫০৩ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারে ৭০% ট্রলার বন্ধ: তেল সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় বিপাকে ৫ হাজার জেলে পরিবার

আপডেট সময় ০৫:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
8

কক্সবাজার দেশের প্রধান মৎস্য আহরণ কেন্দ্র কক্সবাজারে বর্তমানে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। একদিকে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্য ও তীব্র সংকট, অন্যদিকে সাগরে দস্যুতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে জেলার প্রায় ৫,২৫০টি নিবন্ধিত ট্রলারের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ সাগরে যেতে পারছে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৩,৬৭৫টি ট্রলার ঘাটে অলস বসে আছে। এর ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার জেলে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতি ও মাছের বাজারে।

​সরেজমিনে কক্সবাজারের ফিশারি ঘাট, বাঁকখালী নদীর মোহনা এবং টেকনাফের ঘাটগুলোতে দেখা গেছে শত শত ট্রলার সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। সাধারণত এই সময়ে সাগরে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রাচুর্য থাকে, কিন্তু তেলের চড়া দামের কারণে ট্রলার মালিকরা সাগরে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। জেলেরা বলছেন, একবার সাগরে গিয়ে মাছ না পাওয়া গেলে কয়েক লক্ষ টাকার লোকসান গুনতে হয়।
​ ট্রলার মালিক সমিতি: “ব্যবসায় টিকে থাকাই দায়” কক্সবাজার জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন: ​”একটি বড় ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ এবং রসদ বাবদ ৩ থেকে ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। ডিজেলের দাম বাড়ার পর এই খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এছাড়া সাগরে জলদস্যুদের উৎপাত বেড়েছে। এত ঝুঁকি নিয়ে সাগরে গিয়ে মাছ না পেলে আমাদের পথে বসতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে ৭০ শতাংশ মালিক ট্রলার বন্ধ রেখেছেন।”

​প্রান্তিক জেলেদের হাহাকার: “সংসার চলছে না” শহরের সমিতি পাড়ার জেলে রহিম উল্লাহ (৪৫) আক্ষেপ করে বলেন: ​”সারা জীবন সাগরে মাছ ধরেই পেট চালিয়েছি। এখন ট্রলার মালিকরা তেল কিনতে পারছেন না বলে আমাদের কাজে নিচ্ছেন না। গত ২০ দিন ধরে ঘরে বসে আছি। পরিবার নিয়ে তিন বেলা খাওয়া এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

​ মৎস্য আড়তদার ও ব্যবসায়ী: “মাছের সরবরাহ কম, দাম চড়া” ফিশারি ঘাটের একজন পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী জানান: ​”ট্রলার কম আসায় বাজারে মাছের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যেটুকু মাছ আসছে তার দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে কক্সবাজারের মৎস্য খাত বড় ধরনের ধসের মুখে পড়বে।”

​​বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট নিরসনে সরকারকে অবিলম্বে জেলেদের জন্য জ্বালানি ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি সাগরে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করে দস্যুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, দেশের প্রোটিনের বড় উৎস এই মৎস্য শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে।