ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওয়ারেন্টভুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে, রাতের আঁধারে চলছে দাপ্তরিক স্বাক্ষর

চাঁদপুর প্রতিনিধি::
96

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতিকুর রহমান একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় আত্মগোপনে থাকলেও গোপনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত না থাকলেও রাতের আঁধারে তার স্বাক্ষরে বিভিন্ন নথিপত্রে প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলেও পরিষদের কাজ থেমে নেই।

এ অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আজহারুল ইসলামসহ একটি চক্র চেয়ারম্যানকে সহায়তা করছে বলে স্থানীয়দের দাবি। উল্লেখ্য, আতিকুর রহমান হাইমচর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। আন্দোলন চলাকালে তার ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আজহারুল ইসলাম অসুস্থতার অজুহাতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তার পরিবর্তে জন্ম সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, যা বিধিবহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে নথিপত্র তার গোপন অবস্থানে পাঠানো হয়। চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে চেয়ারম্যানকে আর পরিষদে দেখা যায় না।”
ঢাকা থেকে আসা কামরুন নাহার ও বিউটি আক্তার জানান, জন্ম সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এসে তারা চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউকেই পাননি।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আজহারুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যান মাঝে মাঝে অফিসে আসেন।” তবে সর্বশেষ কবে তিনি এসেছেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তিনি ছুটিতে থাকার দাবি করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, আজহারুল ইসলাম কোনো ছুটি নেননি।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন বলেন, “আমি এক মাস আগে যোগ দিয়েছি। চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের জন্য দুবার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, তবে তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের অভিযান শুরুর আগেই একটি চক্র তাকে খবর দিয়ে দেয় বলে ধারণা করছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “আমি ছয় মাস আগে যোগ দিয়েছি। চেয়ারম্যান আত্মগোপনে আছেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন যেহেতু বিষয়টি জানা গেছে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, গত সেপ্টেম্বর মাসেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও চার মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি টাইম লাইনে শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চেকপোস্ট

Checkpost is one of the most popular Bengali news portal and print newspaper in Bangladesh. The print and online news portal started its operations with a commitment to fearless, investigative, informative and unbiased journalism.
আপডেট সময় ১২:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
৫৬৬ বার পড়া হয়েছে

ওয়ারেন্টভুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে, রাতের আঁধারে চলছে দাপ্তরিক স্বাক্ষর

আপডেট সময় ১২:৩৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
96

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতিকুর রহমান একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ায় আত্মগোপনে থাকলেও গোপনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর থেকে চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত না থাকলেও রাতের আঁধারে তার স্বাক্ষরে বিভিন্ন নথিপত্রে প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলেও পরিষদের কাজ থেমে নেই।

এ অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আজহারুল ইসলামসহ একটি চক্র চেয়ারম্যানকে সহায়তা করছে বলে স্থানীয়দের দাবি। উল্লেখ্য, আতিকুর রহমান হাইমচর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। আন্দোলন চলাকালে তার ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আজহারুল ইসলাম অসুস্থতার অজুহাতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তার পরিবর্তে জন্ম সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, যা বিধিবহির্ভূত বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে নথিপত্র তার গোপন অবস্থানে পাঠানো হয়। চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে চেয়ারম্যানকে আর পরিষদে দেখা যায় না।”
ঢাকা থেকে আসা কামরুন নাহার ও বিউটি আক্তার জানান, জন্ম সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে এসে তারা চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউকেই পাননি।

এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আজহারুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যান মাঝে মাঝে অফিসে আসেন।” তবে সর্বশেষ কবে তিনি এসেছেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তিনি ছুটিতে থাকার দাবি করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, আজহারুল ইসলাম কোনো ছুটি নেননি।

হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হোসেন বলেন, “আমি এক মাস আগে যোগ দিয়েছি। চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের জন্য দুবার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, তবে তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশের অভিযান শুরুর আগেই একটি চক্র তাকে খবর দিয়ে দেয় বলে ধারণা করছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় বলেন, “আমি ছয় মাস আগে যোগ দিয়েছি। চেয়ারম্যান আত্মগোপনে আছেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন যেহেতু বিষয়টি জানা গেছে, যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, গত সেপ্টেম্বর মাসেই বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও চার মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।